• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫

Drama: Jamai Bou Chor
Drama: Jamai Bou Chor

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবাকে হত্যা, ছেলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৯:১১, ২৮ আগস্ট ২০২৫

ফন্ট সাইজ
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবাকে হত্যা, ছেলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বাবা সুমন খানকে (৪৭) কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের জামিউল হক খান জিসান (২২) এর বিরুদ্ধে।  শুধু তাই নয় বাবার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে প্রচার করা এবং মাটিচাপা দেয়ার জন্য হত্যার আগে গর্ত খুঁড়ে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। 

এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে। গতকাল ২৭ আগষ্ট বুধবার রাতে এলাকাবাসী ছেলে জামিউল হক খান (২২) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ব্যাপারে নিহত সুমন খানের বাবা নুরুল হক খান ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। 

মামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট বুধবার রাতে সুমন খান ও তার ছেলে জামিউল হক একই ঘরের ঘুমায়। ওই রাতেও মাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করেন জামিউল। একারনে সে মারধরের স্বীকার হন। রাত পৌনে ১২ টার দিকে জামিউলের বাবা তার কাছে গ্যাস নিরাময়ের ওষুধ চান। এ সময় সে গ্যাসের ট্যাবলেটের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি দেয় বাবাকে। ঘুমের ঔষধ তিনি বাড়িতে আগেই সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। ঔষধ খাওয়ার কিছুক্ষনেই মধ্যে সে ঘুমিয়ে পরে। সেই ঘুমই হয় তার চিরঘুম। পরের দিন ২১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘুম থেকে না উঠায় বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখে সুমন মারা গেছে। জামিউল তার বাবার মৃত্যু হার্ট অ্যাটাক স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে ছেলে প্রচার করে।

সে মতে আত্বীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা স্বাভাবিক মৃত্যু ধরে নিয়েই তার দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। লাশের সুরতহাল দেখে দুই একজন প্রতিবেশীর সন্দেহ হলেও ওই সময় এ বিষয়ে তখন কেউ প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু ঘটনার ছয় দিন পর গতকাল ২৭ আগষ্ট প্রকাশ পায় ঘটনার আসল রহস্য। জানা যায় এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয় এটি একটি হত্যাকাণ্ড। 

জামিউলের অস্বাভাবিক আচরন করায় ও বাড়ির পাশের গর্ত দেখে ওই দিনই দাদা নুরুল হক খান জামিউলকে জিঞ্জাসাবাদ করলে সে তার বাবাকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে দাদা নুরুল হক বিষয়টি গ্রামবাসীকে অবগত করলে তারা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকাররোক্তিতে জামিউল জানায়, চার বছর আগে বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এই বিবাহ বিচ্ছেদ কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না কলেজ পড়ুয়া ছেলে জামিউল। বাবাকে অনেক বোঝানোর পরও মা জুলিয়া খানমকে বাবার কাছে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। যার কারণে বাবা ছেলের সম্পর্কেও অবনতি ঘটে। তারপর থেকেই বাবাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে সে। প্রস্তুতি হিসাবে লাশ গুম করতে তিনদিন আগে বাড়ির পাশে গর্ত খুঁড়েও রাখেন। 

নিহতের বাবা নুরুল হক খান জানান, রাশিদুল হক খান সুমন আমার ছেলে আর জামিল, আমার ছেলের ঘরের নাতি। সুমন উপজেলার ধলাপাড়া বাজারে ঔষধের ফার্মেসির ব্যবসা করতো। চার বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে সুমনের সাথে স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তার পর সে আর বিয়ে করেনি। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামিউল তার বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: