অর্থনীতিতে সুবাতাস, রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
শুক্রবার(২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হয়েছে ২০২৫ সালে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রবাসীরা ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
২০২৫ সালের ১২ মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্রে দেখা যায় জানুয়ারিতে এসেছে ২১৮ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চ ৩৩০ কোটি, এপ্রিল ২৭৫ কোটি, মে ২৯৭ কোটি, জুন ২৮২ কোটি, জুলাই ২৪৮ কোটি, আগস্ট ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি, অক্টোবর ২৫৬ কোটি, নভেম্বর ২৮৯ কোটি এবং সবশেষ ডিসেম্বরে এসেছে ৩২৩ কোটি মার্কিন ডলার।
২০২৪ সালে রেমিট্যান্স এসেছিলো ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৮ শতাংশ। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল অনেক বেশি। এ মাসে প্রবাসীরা ৩২৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। একক মাসে আসা এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। ২০২৫ সালের মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২৬৪ কোটি ডলার। এক বছর পর সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক বছরের রেমিট্যান্স আহরণ এর আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি ছিল। গত বছর ২০২৪ সালে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার, ২০২৩ সালে এসেছে ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার, ২০২২ সালে ২ হাজার ১২৯ কোটি, ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি এবং ২০২০ সালে এসেছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার।
এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের ঘরে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৬২৬ কোটি ডলার। এর আগে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল তিন হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তার আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৩৯২ কোটি মার্কিন ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রধান অবদান রাখে রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় ও বিদেশি ঋণ। এর মধ্যে প্রবাসী আয় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, কারণ এটি সরাসরি ডলার আনে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগ, প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সেবা সহজ হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। এর ফলে দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরেছে।
বিভি/এসজি




মন্তব্য করুন: