আজ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি স্বর্ণ
ছবি: সংগৃহীত
টানা দুই দফা কমানোর পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশের বাজারে স্বর্ণের সবশেষ নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্য কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা কিছুটা সহজলভ্য হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজুস স্পষ্ট করেছে, এই নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং জুয়েলার্স নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি প্রদান করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও জটিলতা ভেদে মজুরির হারে তারতম্য হতে পারে।
চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই এখন পর্যন্ত মোট ৩০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারিও স্বর্ণের দাম এক দফা কমানো হয়েছিলো।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিলো, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিলো মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা। বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়েই স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামে এমন ঘনঘন পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন এলেও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে রূপার বাজার। শুক্রবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপা আগের মতোই ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রূপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় স্থির রয়েছে।
চলতি বছর রূপার দাম ১৭ বার সমন্বয় করা হলেও আজকের বাজারে তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত বছর রূপার দামে খুব একটা বড় কোনো পতনের দেখা মেলেনি, বরং ১০ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিলো।
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: