• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

দূরত্ব পেরিয়ে স্মৃতির কাছে ফেরা:বাকৃবিতে ৯৮–৯৯ শিক্ষাবর্ষের পুনর্মিলনী

হাবিবুর রনি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১৯:০৪, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৯:০৪, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দূরত্ব পেরিয়ে স্মৃতির কাছে ফেরা:বাকৃবিতে ৯৮–৯৯ শিক্ষাবর্ষের পুনর্মিলনী

“দূরত্ব যতই হোক, ভালোবাসা থাকে অটুট” এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে গেল প্রায় তিন দশক পেরিয়ে আসা বন্ধুত্ব, স্মৃতি আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের টান। সেই টানেই আবার একসঙ্গে ফিরে আসা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ১৯৯৮–৯৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী শুরু হয়েছে আনন্দ, আবেগ আর স্মৃতিচারণের নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড এলাকা যেন হঠাৎ করেই ফিরে গেল অতীতে। পরিচিত ক্যাম্পাস, পরিচিত রাস্তা—তবু মুখগুলোতে সময়ের ছাপ। কেউ এসেছেন দেশ-বিদেশের কর্মব্যস্ত জীবন পেরিয়ে, কেউ আবার সন্তানদের হাত ধরে। পরিবার-পরিজন নিয়ে চিরচেনা ক্যাম্পাসে পা রেখেই যেন অনেকের চোখ ভিজে উঠেছে।

বেলুন আর পায়রা উড়িয়ে পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় বর্ণাঢ্য র‍্যালি। র‍্যালিটি হেলিপ্যাড থেকে যাত্রা শুরু করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনে দিয়ে কেআর বাজার প্রদক্ষিণ করে সমাবর্তন চত্বরে এসে শেষ হয়। র‍্যালির সারিতে ছিল হাসি, আলিঙ্গন, পুরোনো ডাকনাম আর ‘চিনতে পারছিস?’—এরকম অজস্র প্রশ্ন।

এই পুনর্মিলনী যেন শুধু অনুষ্ঠান নয়, ছিল স্মৃতির পুনর্জন্ম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগ সামলাতে পারেননি।

অংশগ্রহণকারী মাসুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা আর ভাইভাগুলো আজও আমাকে আবেগাপ্লুত করে। ভাইভায় ভুল বললে শিক্ষকদের বকা, সেই মুহূর্তগুলো মনে পড়লে এখনও চোখে পানি চলে আসে। আমরা সবসময় আমাদের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁদের হাত ধরেই আজ আমরা নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়াতে পেরেছি।”

একই সঙ্গে স্মৃতির ভেতর উঠে এসেছে কিছু আক্ষেপ, কিছু না বলা কথা। শিক্ষার্থী শিল্পী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। তবে কিছু কষ্টও ছিল। মাত্র এক নম্বরের জন্য ফার্স্ট ক্লাস না পাওয়ার বিষয়টি আমাকে অনেক পীড়া দিয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়, আমাদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। পরে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়ে সব কষ্ট ভুলে গেছি। তবুও চাই, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এমন বৈষম্যের শিকার না হন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের সন্তানরাও। ফলে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয় এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে স্মৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য দৃশ্য। কেউ সন্তানকে দেখাচ্ছেন ক্লাসরুম, কেউ হোস্টেলের গল্প শোনাচ্ছেন, কেউবা বলছেন প্রথম প্রেম, প্রথম বন্ধুত্বের গল্প।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, “এই পুনর্মিলনী আয়োজনটি অত্যন্ত নান্দনিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, গল্প—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে আজকের আয়োজনটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই ক্যাম্পাসে নীয়ন আলোর সাজ পুরো পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কেউ যেন কোনো খারাপ স্মৃতি নিয়ে না ফেরেন—সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

দিনের শেষে বোঝা গেল, এই পুনর্মিলনী শুধু একটি উৎসব নয়—এটি সময়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা বন্ধুত্বের উদযাপন। যেখানে বয়স, দূরত্ব কিংবা ব্যস্ততা কিছুই ভালোবাসার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে সেই ভালোবাসাই আজ দুই দিনের জন্য আবার ফিরে এসেছে—হাসি, গল্প আর স্মৃতির মেলায়।
 

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত