প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা। পরে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। এ সময় দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। পাশাপাশি ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
দিবসটির বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিকদের আত্মার মাগফিরাত এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে সেদিন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হয় এবং জাতীয় সংহতির নতুন ভিত্তি তৈরি হয়।
তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান এবং ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে তাদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
এ সময় দূতাবাসের কনস্যুলারসহ অন্যান্য সেবা আরও জনবান্ধব করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানান রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় স্বার্থে দলমত-নির্বিশেষে কাজ করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বীরত্বগাথা তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা পর্বে প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, আব্দু রহিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দেন। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদ্যাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যের চেতনা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা, প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের আরও কার্যকর অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: