দুর্বল নেটওয়ার্কেও যেভাবে কাজ করে ইমো
দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে ভিডিও বা অডিও কল মাঝপথে কেটে যাওয়া এখনো অনেক ব্যবহারকারীর জন্য নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। তবে, এই সীমাবদ্ধতাকেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় রূপ দিয়েছে জনপ্রিয় কমিউনিকেশন অ্যাপ ইমো। দুর্বল নেটওয়ার্কেও মানুষকে সংযুক্ত রাখার পেছনে রয়েছে এর বিশেষ নেটওয়ার্ক-অপ্টিমাইজেশন প্রযুক্তি।
ইমো রিয়েল-টাইম নেটওয়ার্ক সেন্সিং অ্যালগরিদম একসঙ্গে একাধিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে। ব্যান্ডউইথের সার্বক্ষণিক অবস্থা পরিমাপ করে। ‘প্যাকেট লস’ এর হার অর্থাৎ, ইন্টারনেট দিয়ে ডাটা আদান-প্রদান করার সময় কোনো অংশ হারিয়ে যাচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখে। এছাড়াও, ‘নেটওয়ার্ক জিটার’ – সহজ কথায়, ইন্টারনেটের গতির উঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে কলকে স্থিতিশীল রাখে। অ্যাপটিতে ল্যাটেন্সির ওঠানামা প্রতি মুহূর্তে বিশ্লেষণ করে কলের মান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হয়, যে কারণে ব্যবহারকারীরা উপভোগ করেন নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সুবিধা।
ইমোতে কোন কলকে নির্দিষ্ট মানের মধ্যে আটকে না রেখে কয়েক মিলিসেকেন্ড অন্তর ট্রান্সমিশন প্যারামিটার নতুন করে সমন্বয় (ক্যালিব্রেট) করা হয়। নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিটরেট কমানো হয়, ফ্রেম ট্রান্সমিশনের ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় করা হয় এবং ভিডিওর তুলনায় অডিও প্যাকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যাতে করে কথোপকথন অব্যাহত থাকে।
ইমো খুব অল্প ইন্টারনেট খরচ করে দ্রুত কাজ করতে পারে, যাকে বলা হয় ‘লাইটওয়েট প্রোটোকল।’ এছাড়া, এর ‘প্যাকেট সাইজ’ ছোট এবং কল সেটআপ প্রক্রিয়া খুবই সহজ। অন্যদিকে, ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব সামান্য ডেটা খরচ করায় ইন্টারনেটের খরচও কম হয়।
কল কন্ট্রোল সিগন্যালিং (মানে কাকে কল করা হচ্ছে) এক দিক দিয়ে যায়, আর কল কানেক্ট হওয়ার পর কথা বা ভিডিও ডেটা আরেকটা আলাদা পথে আদান-প্রদান হয়। ইমো এ দুটিকে আলাদা করে রাখে। এই ডিজাইনের কারণে দুর্বল নেটওয়ার্কেও কল দ্রুত কানেক্ট হয় এবং কথা বলার সময় কল কেটে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: