• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক, দুই দেশের দূতদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৩:০৪, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক, দুই দেশের দূতদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপর হুমকি। এরই মধ্যে দেশটিতে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের প্রভাবশালী এই সংস্থার সদস্যরা ইরানের প্রতিনিধির কাছ থেকে বিক্ষোভের বিষয়ে শুনেছেন। এই বৈঠকে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নিরাপত্তা পরিষদে দুই দেশের দূতদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ইরান সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হওয়ার ইঙ্গিতের মধ্যেই জাতিসংঘে মুখোমুখি অবস্থানে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানায়, তারা ইরানের ‘সাহসী জনগণের’ পাশে রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সব ধরনের অপাশন খোলা রয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাজের মানুষ। জাতিসংঘে আমরা যে অন্তহীন কথাবার্তা দেখি, তিনি সেরকম নন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধে সব ধরনের অপশনই খোলা রয়েছে।’

টিআরটি ওয়াল্ড বলছে, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের অনুরোধেই এই বৈঠক ডাকা হয়। এর আগে টানা কয়েক দিন ধরে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেয়ার পর ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে অনেকটা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের অবস্থান নেন। তিনি বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে হত্যাকাণ্ডের মাত্রা কমছে এবং এই মুহূর্তে ব্যাপক আকারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই তার ধারণা।

এ ছাড়া ইরানের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র ও সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাসীর জানা উচিত, এই মুহূর্তে ইরানের শাসকগোষ্ঠী আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে দুর্বল। জনগণের শক্তির মুখে তারা ভীত, তাই এই মিথ্যা গল্প ছড়াচ্ছে। তারা নিজের জনগণকেই ভয় পাচ্ছে।’

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংবেদনশীল সময়ে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মার্থা পোবি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, সব পক্ষকে এমন কোনও পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে আরও প্রাণহানি ঘটে বা পরিস্থিতি আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়।

অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি বক্তব্যের শুরুতেই দুইজন সিভিল সোসাইটি ব্রিফারকে আক্রমণ করে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক এজেন্ডার প্রতিনিধিত্ব করছেন। ইরানের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি কথা বলছেন ‘শোকাহত এক জাতির’ পক্ষে।

দারজির অভিযোগ, ‘যে যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠকের অনুরোধ করেছে, তার প্রতিনিধি আজ সত্য গোপন করতে মিথ্যা, তথ্য বিকৃতি ও ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তির আশ্রয় নিয়েছেন। ইরানে অস্থিরতা সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা আড়াল করতেই এসব করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ইরানে আন্দোলনের সূচনা হয়। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দরপতন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমাবনতির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

এতে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ শত শত মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট পরিষেবা ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ প্রায় সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা কমেছে বলে জানা যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা, টিআরটি ওয়ার্ল্ড

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: