• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের পথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি যুদ্ধের ইঙ্গিত?

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৫:১৩, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানের পথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি যুদ্ধের ইঙ্গিত?

নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য। সমুদ্রপথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর, আর স্থলভাগে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ইরান। এই টানটান পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুই এখন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত। এ দুই দেশের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে গভীরভাবে চেয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় আকারের নৌবহর ইরানের দিকে পাঠাচ্ছে। এটি সরাসরি আক্রমণের প্রস্তুতি না হলেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘সতর্কতা’ বার্তাটি ইঙ্গিতময়। এমন সতর্কতা পরবর্তী সময়ে হামলার দিকে গড়িয়েছে, এমন নজির আছে ভুরি ভুরি। 

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করা এই নৌবহরে রয়েছে অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বহরটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় পৌঁছানোর কথা। ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন, তার পরবর্তী কঠোর দমন-পীড়ন এবং ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই এই সামরিক তৎপরতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধজাহাজ পাঠানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না কোনো সংঘাত সৃষ্টি হোক। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে দেওয়া তার বক্তব্যে দ্ব্যর্থক বার্তার ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নতুন করে সক্রিয় করে বা অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে কঠোর পথে হাঁটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না। এ অবস্থায় শুধু নৌবহর নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এতে একদিকে ঘাঁটিগুলো সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সক্ষমতাও বাড়বে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানও চুপ নেই। তেহরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনো মার্কিন আগ্রাসন বা হামলার জবাব হবে তাৎক্ষণিক এবং ধ্বংসাত্মক। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব স্বার্থ, ঘাঁটি ও প্রভাবকেন্দ্র বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। 

আবদোল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালোভাবেই জানে, যে কোনো ভুল হিসাবের পরিণতি কী হতে পারে। হিট অ্যান্ড রান-এর যুগ শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিক্রিয়া এমন হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা যা কল্পনাও করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র তা খুব ভালো করেই জানে, বলেন তিনি। 

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকেও দেওয়া হয়েছে আরও কড়া বার্তা। বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন শেষে তাদের বাহিনী এখনো সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তার কথায়, বাহিনীর আঙুল এখনও ট্রিগারেই আছে। সংঘাত শুরু হলে প্রতিক্রিয়া হবে মুহূর্তের মধ্যেই।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, অন্যদিকে ইরানের কঠোর অবস্থান, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবারও দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে। 

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন: