• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম আবারও স্থগিত

প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:৩৮, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম আবারও স্থগিত

জাপানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম আবার স্থগিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, সমস্যাটি কবে সমাধান হবে—তা এখনও নিশ্চিত নয়।

নিগাতা প্রদেশের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রটি বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে বর্তমানে সাতটি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে মাত্র একটি চালু করা হয়েছিল।

এর আগে ২০১১ সালের ভূমিকম্পে ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় ১৪ বছর বন্ধ ছিল। সবশেষে পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি (টেপকো) জানায়, রিঅ্যাক্টর চালু করার প্রক্রিয়ার সময় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার একটি অ্যালার্ম বেজে ওঠে। এর পর চালু হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক তাকেউকি ইনাগাকি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি এক-দুই দিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে আমরা মনে করছি না। কত সময় লাগবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আপাতত কী কারণে এই সমস্যা হয়েছে, সেটি শনাক্ত করাতেই পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

টেপকোর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি জানান, সমস্যার সমাধানে সময় লাগবে বুঝতে পেরে পরিকল্পিতভাবে রিঅ্যাক্টরের কন্ট্রোল রডগুলো আবার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রিঅ্যাক্টরটি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং কেন্দ্রের বাইরে কোনো তেজস্ক্রিয় প্রভাব পড়েনি। কন্ট্রোল রড হলো এমন একটি যন্ত্র, যা রিঅ্যাক্টরের ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে।

রড সামান্য তুলে নিলে বিক্রিয়া বাড়ে, আর ভেতরে ঢুকিয়ে দিলে বিক্রিয়া ধীর হয়ে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

২০১১ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে তিনটি রিঅ্যাক্টর গলে যাওয়ার ঘটনায় জাপান সব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। তবে জাপান এখন আবার পারমাণবিক শক্তির দিকে ফিরতে চায়।

এর লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা।

কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রটি ২০১১ সালের পর টেপকো পরিচালিত কোনো পারমাণবিক ইউনিটের প্রথম পুনরায় চালুর উদ্যোগ। টেপকোই ফুকুশিমা দাইইচি কেন্দ্র পরিচালনা করত, যা বর্তমানে ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে নিগাতা প্রদেশে এই কেন্দ্র পুনরায় চালু করা নিয়ে জনমত বিভক্ত। গত সেপ্টেম্বরে করা এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা কেন্দ্রটি চালুর বিপক্ষে, আর ৩৭ শতাংশ এর পক্ষে।

এ মাসের শুরুতে পুনরায় চালুর বিরোধিতা করা সাতটি সংগঠন প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন টেপকো ও জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেয়। আবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত এবং ২০০৭ সালেও এটি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সূত্র: আল জাজিরা

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: