মার্কিন রণতরী ঘিরে যুদ্ধমহড়ার আয়োজন ইরানের!
চলমান উত্তেজনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন রণতরী ঘেঁষে বড়সড় যুদ্ধমহড়ার আয়োজন করছে ইরান। দুই দিনব্যাপী এই লাইভ ফায়ার নৌ-মহড়ায় তাজা গোলাবারুদ ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ কীভাবে মোকাবেলা করা হবে তারই আংশিক প্রদর্শনী হবে এই মহড়ায়।
আল জাজিরা জানিয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালিতে শুরু হবে এই সামরিক মহড়া। এমন এক সময় এই মহড়ার ঘোষণা এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এই হরমুজ প্রণালি। এটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। সম্ভাব্য যে কোনো মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা অনেক বিশ্লেষকের। সে ক্ষেত্রে বড়সড় ধাক্কা খাবে বৈশ্বিক তেলের বাজার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি-র নৌবাহিনী ওই মহড়া পরিচালনা করবে। ইরানি কর্মকর্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হামলা হলে পাল্টা হামলা হবে দ্রুত ও সর্বাত্মক।
এদিকে আকস্মিক এই সামরিক মহড়ার ঘোষণায় অপ্রস্তুত মার্কিন বাহিনী। এটি দুর্ঘটনা ও সংঘাত উস্কে দিতে পারে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইআরজিসিকে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড- সেন্টকম জানিয়েছে, মহড়ার নামে কোনো প্রকার অসুরক্ষিত বা বিপজ্জনক সামরিক তৎপরতা মেনে নেবে না তারা। মহড়াকালে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে ইরানি বিমান বা ড্রোনের উড্ডয়ন কিংবা জাহাজ চলাচলের পথে ইরানি স্পিডবোতের উপস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম সতর্কতা জানিয়ে বলেছে, মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক মিত্র বা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে কোনো ধরনের অসুরক্ষিত ও অপেশাদার সামরিক তৎপরতা সংঘর্ষ, উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াবে।
এক প্রকার হুমকি জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও প্রাণঘাতী বাহিনী। তারা সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রেখে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ইরানের আইআরজিসিও যেন একই আচরণ করে।
রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া ইরানের এই মহড়ার কারণে যেন হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে ব্যাপারেও সতর্কতা জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে কেবল জলপথে নয়, এ যাত্রায় যে কোনো মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া আরো বিস্তৃত পরিসরে দেয়া হবভে বলে হুঙ্কার দিয়েছে ইরান। সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা ও ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি সামখানি বলেছেন, আমরা সংঘর্ষের ভৌগোলিক সীমাকে শুধুমাত্র সমুদ্রে সীমাবদ্ধ করছি না বরং আরও বিস্তৃত ও বৃহৎ পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছি।
কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়ে শামখানি আরো বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির চেয়ে এই অঞ্চলের ভূগোল আরো ভালোভাবে জানে ইরান। তার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মানে এই নয়, যে তারা এই অঞ্চলে, সর্বোচ্চ ক্ষমতা পেয়েছে। আমরা এই ভূগোল এবং এর ক্ষমতা ভালোভাবে জানি।
বিভি/এইচজে



মন্তব্য করুন: