• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এক রাতেই ৪০০ ড্রোন নিক্ষেপ করলো রাশিয়া (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আলোচনার আগে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় দুই দেশেই একাধিক বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। 

১৬ ফেব্রুয়ারি রাতভর প্রায় ৪০০টি ড্রোন এবং বিভিন্ন ধরনের ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মোট ৩৯২টি আক্রমন নস্যাৎ করা হয়েছে। তবে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৮টি হামলাকারী ড্রোন ১৩টি স্থানে আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়েছে। হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ওডেসা ও দেনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে।

জবাবে ইউক্রেনও রাতভর রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল ইলস্কি তেল শোধনাগার। এতে তেলজাত পণ্যের একটি সংরক্ষণ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের বিভিন্ন স্থানেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলছে।  রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযানের চতুর্থ বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার মুখে এই শান্তি উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। 

মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। 

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। ধারনা করা হচ্ছে এবারের আলোচনার পরিণতিও একইরকম হতে যাচ্ছে। দুই পক্ষই তাদের আগের অবস্থানে অনড় থাকায় প্রথম দিনে কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।

এই আলোচনার শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জেনেভায় যাওয়ার পথে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ইউক্রেনকে খুব দ্রুত আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় আসতে হবে।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অযথা চাপ’ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির দাবি, শান্তি পরিকল্পনার শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে শুধু ইউক্রেনকেই ছাড় দিতে বলছেন, রাশিয়াকে নয়। যা মোটেও ন্যায় সঙ্গত নয়।

তবে জেলেনস্কি আবারও প্রস্তাব দিয়েছেন, সংঘাত বর্তমান ফ্রন্টলাইন বরাবর স্থির বা ফ্রিজ করা হোক। অর্থাৎ, বর্তমানে রুশ সেনারা ইউক্রেনের যতটুকু জায়গা দখল করে আছে, তারা আপাতত সেখানেই থাকবে। মাঝখানে একটি 'বাফার জোন' বা সংযোগরেখা তৈরি হবে যেখানে কোনো লড়াই চলবে না। ফলে কোনো স্থায়ী সীমানা চুক্তি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির দিকেই বেশি মনোযোগ জেলেনস্কির।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: