• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের কোন স্থাপনায় পরবর্তী হামলা, প্রকাশ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১১:০২, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানের কোন স্থাপনায় পরবর্তী হামলা, প্রকাশ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (সংগৃহীত)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে মার্কিন হামলার পর তিনি ইঙ্গিত দেন, পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানে যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা ধ্বংস করা এখনো শুরুই করিনি। পরের লক্ষ্য সেতু, এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্র।’ 

তিনি আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্ব ‘জানে কী করতে হবে এবং দ্রুত করতে হবে।’

এর আগে বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না নিলে যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে এবং ইরানের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

তবে এই হুমকির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এক খোলা চিঠিতে বলেন, ইরানে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধে বেসামরিক জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ। এসব চুক্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং বেসামরিক স্থাপনার মধ্যে পার্থক্য করতে হবে এবং বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করা যাবে না।

বুধবারের ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত হানব। আমরা তাদের এমন অবস্থায় নিয়ে যাব, যা প্রস্তর যুগের মতো।’

যদিও তিনি দাবি করেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তবে যুদ্ধ শেষ করার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে তেহরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলি অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠেছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। -সূত্র: রয়টার্স

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: