মমতা ব্যানার্জির হেলিকপ্টারের সামনে রহস্যময় ড্রোন, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলছে নির্বাচনী হাওয়া। শনিবার মালদহের মালতীপুরে নির্বাচনী জনসভা সেরে ফেরার পথে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিরাপত্তা বলয়ে এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় ঘটনা ঘটে। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ও ভিভিআইপি প্রোটোকল ভেঙে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের একেবারে সামনে উড়ে এল একটি ড্রোন। এই ঘটনায় কেবল প্রশাসনিক মহলেই চাঞ্চল্য ছড়ায়নি, বরং তৃণমূল সুপ্রিমোর নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার মালদহে মমতার তিনটি জনসভা ছিল। মানিকচকে প্রথম সভা শেষ করে তিনি পৌঁছান মালতীপুরের সামসি কলেজ মাঠে। সেখানে মালতীপুর, হরিশ্চন্দ্রপুর ও রতুয়ার তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৩৪ মিনিট দীর্ঘ ভাষণ দেন তিনি। সভা শেষ করে বেলা ১টা নাগাদ তিনি যখন হেলিপ্যাডের দিকে এগিয়ে যান এবং হেলিকপ্টারে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যখন কপ্টারের পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, আচমকাই একটি ড্রোনকে হেলিকপ্টারের মাথার ওপর অত্যন্ত কাছাকাছি ‘বনবন’ করে ঘুরতে দেখা যায়। সাধারণ ভিড়ের দিক থেকেই ড্রোনটি এসেছিল বলে প্রাথমিক অনুমান। কিন্তু হাই-প্রোফাইল নেত্রীর হেলিপ্যাডের এত কাছে কীভাবে একটি ড্রোন চলে এল, তা দেখে রীতিমতো হতচকিত হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী।
কপ্টারের সামনে ড্রোনটির রহস্যময় গতিবিধি দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি মমতা ব্যানার্জি। তিনি তখন হেলিকপ্টারে না উঠে থমকে দাঁড়ান। নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী এবং সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ডেকে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন। এমনকি মাইক হাতে নিয়ে প্রকাশ্যেই তিনি বলেন, 'পুলিশের এটা নজরে রাখা দরকার। যারা এটা করেছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করতে হবে।'
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর গোটা পুলিশ মহলে হুলস্থূল পড়ে যায়। যদিও পরে তৃণমূলের একটি নির্বাচনী প্রচার সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, ড্রোনটি তারাই উড়িয়েছিল।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর হেলিপ্যাডের মতো অতি-সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর কোনো লিখিত অনুমতি কি সেই সংস্থার কাছে ছিল? যদি না থাকে, তবে নিরাপত্তারক্ষীরা কেন আগে থেকে সতর্ক হননি?
বারবার বিপত্তির মুখে মুখ্যমন্ত্রীর আকাশপথ
মমতা ব্যানার্জির আকাশপথের যাত্রা নিয়ে গত কয়েক দিনে একের পর এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে চলেছে। গত ২৬ মার্চ দুবরাজপুর থেকে ফেরার পথে প্রবল দুর্যোগের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। প্রায় ৭০ মিনিট কলকাতার আকাশে চক্কর কাটার পর তিনবার অবতরণে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ দমদমে নামতে সক্ষম হয়।
১ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থেকে নবগ্রাম যাওয়ার পথে ঝড়বৃষ্টির কারণে কপ্টার নামতে না পেরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত সড়কপথেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মালদহে ‘ড্রোন বিভ্রাট’ নতুন করে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উসকে দিয়েছে। রাজনীতির কারবারিদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, বারবার কেন মুখ্যমন্ত্রীর যাত্রাপথেই এমন অস্বাভাবিক বিপত্তি ঘটছে? এটি কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি নেত্রীর ওপর কোনো বড়সড় আঘাত হানার প্রচ্ছন্ন ছক?
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন
একজন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল থাকে। ড্রোন প্রুফ জ্যামার বা আগাম তল্লাশি ছাড়াই কীভাবে জনসভার মাঝখানে ড্রোন ওড়ানো সম্ভব হল, তা নিয়ে রাজ্য পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের আবহে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, তখন এই ধরণের নিরাপত্তা বিচ্যুতি চরম বিপদ ডেকে আনতে পারত।
তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের পাখা ঘোরার সময় ড্রোনের মতো কোনো বস্তু তার সংস্পর্শে এলে বড়সড় আকাশপথের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। সূত্র: জিনিউজ২৪
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: