আইকিউয়ে সেরাদের থেকেও সেরা লোরান, ১৩ বছরেই পিএইডি অর্জন
পৃথিবীকে অবাক করে দেওয়ার মতো এক অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছে ‘লোরান’ নামের এক কিশোর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ইউনিভার্সিটি অব আন্তওয়ারপেনে নিজের গবেষণাপত্র সফলভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা খুবই বিরল এবং এক নজিরবিহীন অর্জন। এমনকি তার বয়সে পিএইচডি অর্জন করা সম্ভবত একটি রেকর্ড। যদিও এই ধরনের অসাধারণ অর্জনের কোনও আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক তালিকা নেই, তবে লোরান অর্জন ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সায়েন্স অ্যালার্টের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
লোরানের বৈজ্ঞানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল অত্যন্ত ছোটবেলায়। মাত্র ৪ বছর বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৬ বছর বয়সেই তা সমাপ্ত করে, তার মেধা ও প্রচেষ্টার প্রথম স্বাক্ষর রেখেছিল। তারপর আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায় তার সাফল্যের পথ। ১২ বছর বয়সে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করে, যেখানে তিনি বোসন কণা এবং ব্ল্যাক হোল সম্পর্কিত গবেষণা করেছিলেন।
এমন অসম্ভব স্মৃতিশক্তি ও উচ্চ আইকিউ, যার মান প্রায় ১৪৫, লোরানকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। এই আইকিউ পৃথিবীর সেরা মেধাবীদের মধ্যেও বিরল। তার অসাধারণ মেধা তাকে সারা পৃথিবীতে পরিচিত করে তুলেছে।
এত বড় অর্জনের পেছনে একটি হৃদয়স্পর্শী গল্পও রয়েছে। ১১ বছর বয়সে যখন লোরান তার দাদা-দাদিকে হারায়, তখন তার জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। সেই সময়ে তাকে অমরত্ব বা মানুষের আয়ু বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার অদম্য আকাঙ্খা জন্ম নেয়। এটাই এখন তার জীবনের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছেন।
লোরানের সাফল্য অসাধারণ হলেও, ইতিহাসে এমন আরও কিছু উদাহরণ রয়েছে। কার্ল ভিট্টা, ১৮১৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন, যা এখনো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ অন্যতম কনিষ্ঠ পিএইচডি হিসেবে তালিকাভুক্ত। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে কারসন হুয়ে-ইউ ২১ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেছেন।
লোরানের সাফল্য শুধু বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানে অবদান রাখার এক সম্ভাবনা নয়, বরং বিভিন্ন বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এবং গবেষণাকেন্দ্রের কাছ থেকে তার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন এর কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাকে আমন্ত্রণ জানালেও, তার পরিবার এখনো এসব প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
লোরানের বাবা একবার বলেছিলেন, লোরান যেন দুজন; একজন বিজ্ঞানী, আরেকজন সাধারণ শিশু। তার এই কথার মধ্যেই একটি সচেতন অভিভাবকের বার্তা লুকিয়ে রয়েছে, অসাধারণ মেধার পাশাপাশি, লোরান এখনও একটি কিশোর, যার নিজের মতো করে বড় হওয়ার সময় প্রয়োজন।
লোরানের গল্প আমাদের শেখায়, মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনও সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। তবে, তার বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার যাত্রা কেবল শুরু। এখন আরও অনেক বড় কাজ তার সামনে অপেক্ষা করছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: