যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের গুরুতর অভিযোগ!
ছবি: সিবিসি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুই হামলায় অন্তত ১৭৮ বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ বিবেচনার মতো যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ছিলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। তাদের মধ্যে ১২০ জনই শিশু।
একই দিনে দক্ষিণাঞ্চলীয় লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। এতে আরও ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। হামলায় আশপাশের একটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীরা জানান, মিনাবের স্কুলটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিলো। সেখানে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। তবে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য ছিলো যে, সেখানে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডারের উপস্থিতি ছিলো। তদন্ত মিশনের মতে, তথ্যটি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে হামলায় একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। তদন্তকারীদের মতে, হামলাটি নির্বিচার ছিলো এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে।
তবে জাতিসংঘের তদন্তের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
একই প্রতিবেদনে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগও আনা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
বিভি/এমআর













মন্তব্য করুন: