ক্রিয়েটিভ আইটি ক্যারিয়ার ফেস্ট: তরুণদের চাকরির নতুন দিগন্ত

কর্মবাজারে তরুণদের সম্ভাবনা এবং অনুপ্রেরণার নতুন পথ তৈরি করতে সম্প্রতি ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট সফলভাবে আয়োজন করেছে ‘ক্রিয়েটিভ আইটি ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৫’।
কর্মবাজারে তরুণদের সম্ভাবনা এবং অনুপ্রেরণার নতুন পথ তৈরি করতে সম্প্রতি ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট সফলভাবে আয়োজন করেছে ‘ক্রিয়েটিভ আইটি ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৫’। ২৩ ও ২৪ আগস্ট দুই দিনব্যাপী এই মেগা ইভেন্টটি ছিল দেশের টেক, আইটি ও ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির একটি অন্যতম মিলনমেলা।
ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও টেক জায়ান্টগুলো এক ছাদের নিচে এসে তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ করে দেয়। ইভেন্টে বিশেষ সেশন, নেটওয়ার্কিং এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ থাকায় এটি দেশের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ার ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ফেস্টের উদ্বোধন করেন ক্রিয়েটিভ বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যান মনির হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই ফেস্ট শুধু চাকরির সুযোগই তৈরি করেনি, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যতের পথে হাঁটার সাহস জুগিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি—এই তরুণরাই আগামী দিনের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
গ্রুপের সিওও জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট মানে শুধু চাকরি নয়, বরং এটি হলো অ্যাকাডেমিক জ্ঞান আর ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন। এই ইভেন্ট দেখিয়েছে, কীভাবে শেখা বিষয়টিকে সত্যিকারের সুযোগে রূপান্তর করা যায়।
চিফ গ্লোবাল অফিসার শম্পা পারভীন আন্তর্জাতিক ভিশন তুলে ধরে বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের তরুণদের এমনভাবে তৈরি করা, যেন তারা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।
এইবারের ফেস্টের প্রতিপাদ্য ছিল “A Gateway to Tomorrow’s Careers”। ২০ জনেরও বেশি শিল্প বিশেষজ্ঞ তাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা তরুণদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। বিশেষ করে ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, ডিজিটাল বিজনেস ও ক্রিয়েটিভ বিষয়ে আয়োজিত সেশনগুলো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করে।
বিভিন্ন সেশনে বক্তারা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারজানা আফরিন তিশা বলেন, ক্লাউড ও এআই বাস্তবতা পাল্টে দিচ্ছে, তবে আসল শক্তি লুকিয়ে আছে ক্রমাগত দক্ষতা অর্জনে। একই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইউসুপ ফারুক বলেন, সুযোগ পেলে প্রতিভা আরও বিকশিত হয়, তাই নিজেকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন অপ্টিমাইজেলি-এর শাদাব শায়েরি আহমেদ, ড্যাফোডিল ফ্যামিলি-এর কেএম হাসান রিপন, শিখো-এর ইশমাম চৌধুরী এবং অ্যাক্সেন্টেক পিএলসি-এর মুনাফ মুজিব চৌধুরী। তাঁরা যথাক্রমে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, নেতৃত্ব, ব্র্যান্ডিং এবং ভবিষ্যৎ দক্ষতার ওপর জোর দেন।
চাকরির সুযোগ এবং সরাসরি নিয়োগ:
২৪ আগস্ট দ্বিতীয় দিনটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল। Bdjobs.com, Betopia Group, BRIDGE Chemie, Plexus Cloud, EDitouchIT, এবং BINARYcgi-এর মতো ১৪টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনে অংশ নেয়।
প্রথাগত ক্যারিয়ার ফেয়ারের বাইরে গিয়ে অংশগ্রহণকারীরা এখানে মক ইন্টারভিউ, সিভি রিভিউ এবং অন-স্পট নিয়োগের সুযোগ পান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ফেস্টে ১২০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়ে এবং অন-স্পট সাক্ষাৎকার শেষে অনেকেই চাকরির অফার পান। অনেকের জন্য এটি ছিল জীবনের প্রথম কর্পোরেট ইন্টারভিউ, আবার কারো জন্য ছিল প্রথম চাকরির অফার লেটার পাওয়ার অভিজ্ঞতা।
গিগাবাইট বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায়, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড–এর মিডিয়া সহযোগিতায় এবং মার্কেটডিয়ামের আউটরিচ পার্টনারশিপে আয়োজিত এই উদ্যোগটি কেবল একটি জব ফেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি তরুণদের জন্য একটি দিকনির্দেশক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। এর মাধ্যমে তারা ক্যারিয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে।
বিভি/এজেড
মন্তব্য করুন: