• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা কবিতায় নারী কবি - ১

প্রকাশিত: ০৯:০৫, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

আপডেট: ০৯:৪১, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

ফন্ট সাইজ
বাংলা কবিতায় নারী কবি - ১

ছোট্টবেলায় মা বা নানী-দাদির মুখে ছড়া শোনেননি এমন মানুষ হয়তো পাওয়া দুস্কর। কারণ কয়েক বছর আগেও ছোট্টবেলায় শিশুদের ঘুম পাড়ানোর জন্য মায়ের মুখের ছড়াই ছিলো প্রধান যন্ত্র। এমন কি ছোট্ট ভাই-বোনদের সাথে খেলার ছলে, কিংবা ঘুম পাড়াতে অপেক্ষাকৃত বড় বোনেরা ছড়া, গান ইত্যাদি আওড়াতে থাকে। তাই নারীদের অবচেতন মনেই গাঁথা থাকে শ্লোক, ছন্দ কথা। সে হিসেবে বলা যায়, নারীর সহজাত আচরণেই কাব্যগাঁথা লুকায়িত আছে। যাইহোক, আজকের আলোচ্য সূচিতে ফিরে আসি। বাংলা কবিতা তথা সাহিত্যে নারী কবিদের পদচারণা নিয়ে নাসরীন গীতির ধারাবাহিক উপস্থাপনার প্রথম পর্বে থাকছে 'চন্দ্রাবতী'র উপাখ্যান।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী। তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর নারী কবি। ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী কবি জন্ম গ্রহণ করেন তখনকার বঙ্গদেশের ময়মনসিংহের পাতুয়ারি গ্রামে (বর্তমানের বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে)। তান বাবাও ছিলেন অন্যতম গীতি কবি বংশীদাস ভট্টাচার্য, যিনি মনসা মঙ্গল কাব্যের অন্যতম রচয়িতা। চন্দ্রাবতীর মায়ের নাম সুলোচনা ওরফে অঞ্জনা।

চন্দ্রাবতীর নিজের বর্ণনায় তাঁর বংশ পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন কাব্য-ছন্দে- 'ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়। বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়। ভট্টাচার্য ঘরে জন্ম অঞ্জণা ঘরণী। বাঁশের পাল্লায় তালপাতার ছাউনি। ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়। কোপ করি সেই হেতু লক্ষী ছাড়ি যায়। দ্বিজবংশী বড় হৈল মনসার বরে। ভাসান গাইয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।'

চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলি হলো- মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা (মনসার ভাসান, রচনাকাল: ১৫৭৫ শকাব্দ), রামায়ণ ইত্যাদি।

কবি চন্দ্রাবতীর জীবনী অবলম্বনে পরবর্তী সময়কার কবি নয়ানচাঁদ ঘোষ রচিত 'চন্দ্রাবতী' পালায় তাঁর কথা পাওয়া যায়৷ তাঁর জীবনের ট্র্যাজেডি নিয়ে রচিত লোকগাঁথা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অবিভক্ত ময়মনসিংহ জেলার মানুষের মুখে মুখে ফিরে এসেছে৷ চন্দ্রাবতী নিজের কাব্য ছাড়াও বাবা বংশীদাসের মনসামঙ্গল কাব্যের অনেকাংশ রচনা করেছিলেন বলেও ইতিহাস থেকে পাওয়া যায়।

ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক ড. দীনেশচন্দ্র সেন ১৯৩২ সালে চন্দ্রাবতীর 'রামায়ণ' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। লৌকিক মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে এই রামায়ণ কাব্যটি বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। দীনেশচন্দ্রের মতে, মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর মেঘনাদবধ কাব্যের সীতা-সরমার কথোপকথনের অংশটি 'চন্দ্রাবতীর রামায়ণ' থেকে গ্রহণ করেছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের এই প্রথম নারী কবি যাকে বাংলা সাহিত্যের অনেকেই ভুলে গেছেন, চন্দ্রাবতী ইহলোক ত্যাগ করেন মাত্র ৫০ বছর বয়সে, ১৬০০ খিস্টাব্দে।

মন্তব্য করুন: