• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান

প্রকাশিত: ১৭:৩২, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার বহুমুখী (মাল্টিরোল) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।

পাকিস্তানের আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (পিএএফ) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন।

বৈঠকে দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, প্রশিক্ষণ এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের সম্ভাবনা।

জেএফ-১৭ থান্ডার একটি চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক বহুমুখী (মাল্টিরোল) যুদ্ধবিমান, যা চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে তৈরি করেছে। ডন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ ও ২০২৫ সালে ভারতের সাথে সামরিক সংঘাতে এই যুদ্ধবিমানটি তার সক্ষমতা ও কার্যকরিতা প্রমাণ করেছে। 

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়টি বর্তমানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

বৈঠকে এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশী ক্যাডেটদের জন্য প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায়ের উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত কোর্স চালু থাকবে।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেই সাথে এই বিমানের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলারও আশ্বাস দেওয়া হয় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর তরফ থেকে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সক্ষমতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরনো বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় রাডার সিস্টেমকে আরও আধুনিক ও একীভূত করতে পাকিস্তানের কারিগরি সহায়তা চান।

পাকিস্তানের আইএসপিআর জানায়, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি পদক্ষেপ। উভয় দেশই প্রতিরক্ষা খাতে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একমত পোষণ করেছে। 

সফরকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অপারেশনাল সুবিধাগুলো পরিদর্শন করেন।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত
Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2