• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে নতুন জাহাজ, চুক্তি সই

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:২৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে নতুন জাহাজ, চুক্তি সই

সমুদ্র গবেষণাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে একটি হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ক্রয় করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে Government-to-Government (G2G) চুক্তির আওতায় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত নৌবাহিনী সদর দপ্তরে ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ নামের জাহাজটি ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিস ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা।

আইএসপিআরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার (০৮-০২-২০২৬) বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে G2G কাঠামোর আওতায় হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘HMS ENTERPRISE’ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার, যুক্তরাজ্যের সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৫ সাল থেকে উভয় দেশের ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এ চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার প্রতিফলন, যা বাংলাদেশ সরকারের দূরদর্শী, বাস্তবমুখী ও সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে উভয় দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।

‘HMS ENTERPRISE’ যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ। এতে মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার এবং সাব-বটম প্রোফাইলারসহ উন্নত মানের হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ সরঞ্জাম সংযোজিত রয়েছে। গভীর সমুদ্র জরিপ, সিবেড ম্যাপিং, ফিজিক্যাল ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ এবং নেভিগেশনাল চার্ট প্রণয়নে জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া এতে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে International Hydrographic Organization (IHO) কর্তৃক প্রণীত সর্বশেষ জরিপ মানদণ্ড বাস্তবায়ন এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলে দেশের হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে Bangladesh Maritime University, Bangladesh Oceanographic Research Institute (BORI) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সামুদ্রিক গবেষণা কার্যক্রমে এটি সহায়ক হবে। এছাড়াও গভীর সমুদ্রে মোতায়েনের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ, সমুদ্রে উদ্ধার কার্যক্রম এবং মৎস্য ও তেল-গ্যাস ব্লকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, জাহাজটি ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর অধীনে প্রথম যাত্রা শুরু করে এবং ২০২৩ সালে ডি-কমিশন করা হয়। জাহাজটির রি-জেনারেশন কার্যক্রম ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন করে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে সংযোজন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: