• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণ, রাজনৈতিক দল নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০:৪২, ১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২০:৪২, ১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণ, রাজনৈতিক দল নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়—এ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (১ মার্চ) সকালে মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-র সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই। আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার। দু’দেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ।

বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতি ও হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টার চালুকরণ ও ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হত্যা বন্ধকরণ, মহাপরিচালক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফ-এর সম্মেলন, পুলিশ একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণ, বন্দি বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন, দু’দেশ একসাথে পারস্পরিক ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করবে।

মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টার চালুকরণ ও ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধির জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। হাইকমিশনার জানান, পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা প্রদান করা হচ্ছে, কিন্তু গত দেড় বছরে বিভিন্ন ভিসা সেন্টারে মব হামলা ও বিক্ষোভের কারণে সেগুলো বন্ধ ছিল এবং ভিসা প্রদানের হার কমে গিয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির পথে রয়েছে, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতক্রমে ধাপে ধাপে ভিসা সেন্টার পুনরায় চালু করা হবে এবং ভিসা প্রদানের হার বাড়বে। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা সেন্টারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনো মব হামলা হবে না।

হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে ভারতীয় ভিসার আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হয়, কিন্তু ওয়েবসাইট হ্যাকের চেষ্টা হয়েছে। মন্ত্রী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-কে নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত হত্যার বিষয়টি দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে। তিনি সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামানোর জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন।

হাইকমিশনার ভারতের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোকে উন্নত মানের হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো হবে।

বৈঠকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পাওয়ান বাধে, কাউন্সেলর অভিজিত সপ্তরিশি ও প্রথম সচিব অ্যান ম্যারি জর্জ , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত