• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান 

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ১ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান 

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটিকে দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবহার প্রতিটি ধাপই পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।  সিগারেট তৈরি এবং তামাক প্রক্রিয়াজাত করার জন্য পূর্ণাঙ্গ গাছ কেটে ফেলায় উজার হচ্ছে বনভূমি এবং বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তামাক কারখানা থেকে ধোঁয়া, ধুলিকণা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ এবং বায়ুকে মারাত্মকভাবে দূষিত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।  

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ১৯৯, ১৪৯ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তামাকের পরিবেশগত ক্ষতি স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দারিদ্র্য হ্রাস ও টেকসই উৎপাদন এসব লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি অধিক শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। 

ইতিবাচক বিষয় যে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন আকারে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, অধ্যাদেশটি থেকে কিছু বিষয় বাদ দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। যার মধ্যে ক্ষতিকর ই-সিগারেট আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেটকে কম ক্ষতিকর উল্লেখ করে এর প্রসারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা দেশের জনগণের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান এবং অন্যান্য বিধানগুলোসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে পরিণত করা জরুরি। উল্লেখ্য বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেট এর মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির তথ্য উঠে আসায় বিশ্বের ১৩২টি দেশ ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশগত এই ব্যাপক ক্ষতি রোধে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে পরিণত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) চলমান সংসদ অধিবেশনে উক্ত অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। পবা প্রত্যাশা করছে, বর্তমান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ তামাক কোম্পানিগুলোর অনৈতিক হস্তক্ষেপ উপেক্ষা করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে অধ্যাদেশটিতে উল্লেখিত সকল বিধানসহ দ্রুত আইনে পরিণত করবে।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত