• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যান্ডউইথ ঘাটতি নিয়ে প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদে যা জানালো বিএসসিপিএলসি

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ১২ মে ২০২৬

আপডেট: ১২:২৩, ১২ মে ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ব্যান্ডউইথ ঘাটতি নিয়ে প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদে যা জানালো বিএসসিপিএলসি

দেশের একটি বেসরকারি টিভিতে “ইন্টারনেট বিপর্যয়ের শঙ্কা; সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে উদ্বেগ” শিরোনামে প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ক্যাবলস পিএলসি।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, "যমুনা টিভি'তে গত ০৫ মে ২০২৬ তারিখে প্রচারিত “ইন্টারনেট বিপর্যয়ের শঙ্কা; সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ” শিরোনামে সংবাদে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)-এর সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থা, ভূ- রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে ভুল, ভিত্তিহীন এবং প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। বিএসসিপিএলসি এর কোন ধরনের বক্তব্য গ্রহণ না করেই এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের জন্য আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএসসিপিএলসি বলছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের একটি মাত্র আঘাত বাংলাদেশকে ডিজিটাল অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে কোনো সংকট হলে বাংলাদেশের ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে ভারতের উপর ১০০% নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হবে।" এই দাবিটি প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিএসসিপিএলসি এর মোট ৭,২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সক্ষমতার মধ্যে লোহিত সাগর (Red Sea) হয়ে যায় মাত্র ১০০ জিবিপিএস, যা মোট সক্ষমতার মাত্র ১.৩৪% এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিদ্যমান কোন ক্যাবলের কোন সংযোগ নেই। অবশিষ্ট ৭,১০০ জিবিপিএস এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে ৬,০০০ জিবিপিএস এবং চেন্নাই এ ১,১০০ জিবিপিএস এর সংযোগ রয়েছে যা হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর উপর নির্ভর করে না। ফলে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে যমুনা টিভি জনমনে যে আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে “ SMW5 "ধারণক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছেছে যা প্রকৃত অবস্থার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। SMW5-ক্যাবলের বর্তমান লিট-আপ ক্যাপাসিটি ২,২০০ জিবিপিএস এবং তন্মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ১,৪৮৮ জিবিপিএস, অর্থাৎ এখনো ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে। এই ক্যাবলের আয়ুষ্কাল ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত, যা প্রয়োজনে কনসোর্টিয়ামের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আরও বৃদ্ধিযোগ্য এবং চাহিদার প্রেক্ষিতে ক্যাপাসিটি আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে এই ক্যাবলের সক্ষমতাও আরো বাড়ানো সম্ভব। অতএব, SMWS ধারণক্ষমতার শেষ সীমায়" এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবেদনে SMW4-কে ২০ বছরের পুরনো, জীবনকালের শেষ সময় অতিবাহিতকারী" ক্যাবল হিসেবে উপস্থাপন করে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো ক্যাবল পুরনো হওয়া মানেই তার কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বর্তমানে এই ক্যাবলের সক্ষমতা ৪৬৫০ জিবিপিএস এবং এর মাধ্যমে প্রায় ২৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ হচ্ছে অর্থাৎ ক্যাবলটি সম্পূর্ণ সক্রিয় ও কার্যকর। কনসোর্টিয়াম কর্তৃক ক্যাবলটির আয়ুষ্কাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে যা আরোও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করে জনমনে ভুল বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

বিএসসিপিএলসি বলছে প্রতিবেদনের বলা হয়েছে “ লোহিত সাগরের সংযোগ সেতু বন্ধ হয়ে গেলে সিঙ্গাপুরের হাবগুলো হুমকিতে পড়বে" এবং শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরের সাথে যুক্ত হতে যাওয়া বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল দেশে যুক্ত হলেই উক্ত সমস্যার সমাধান হবে"। প্রকৃতপক্ষে লোহিত সাগরের কোনো সমস্যার সাথে সিঙ্গাপুর হাবের কার্যকারিতার সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং সিঙ্গাপুর হাব হুমকিতে পড়লে কেবলমাত্র সিঙ্গাপুরমুখী একটি ক্যাবল উক্ত সমস্যার সমাধান দিতে পারবে দাবি করা সম্পূর্ণ অপপ্রচার। প্রতিষ্ঠানটি এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। 

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রচারের পূর্বে যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও সম্পাদনা কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি। 
 

বিভি/এসআই

মন্তব্য করুন: