• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনিসুল হকের সম্পদে ১৭২ কোটি টাকার অসঙ্গতি, চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৩৮, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
আনিসুল হকের সম্পদে ১৭২ কোটি টাকার অসঙ্গতি, চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, ভাগ্নে ও কাজিন পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি। দুদকের তদন্তে আনিসুল হকের নিজের নামে থাকা সম্পদসহ মোট ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য জানান।

দুদকের তদন্তে আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তার নিট গ্রহণযোগ্য আয় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।

তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের সন্ধান মিলেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে থাকা সম্পদের মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার থাকার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

দুদকের তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তদন্ত শেষে আনিসুল হকসহ জেবুন্নেসা বেগম হক কলি, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইকবালকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: