চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২৪'র ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভা-রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে ১৯৭১ এর মহান যুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেটা ভালো চোখে দেখেনি।
ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, ২৪'র ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেই গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
আমি সকলের সামনে, গণতান্ত্রিক সকল জনগণে স্পষ্ট করে বলতে চাই-যে দয়া করে আপনারা কেউ ২৪'র ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে দয়া করে বিতর্কিত করবেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের নির্দিষ্ট সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই সংসদে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে, তুলে ধরার থাকে, আপনারা সেখানে কথা বলুন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে আপনাদের এখানে আমি এসেছি এইটুক বলার জন্য যে দেখুন, ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। প্রতিটি মানুষ, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল।
ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকিস্বরূপ হয়েছিল, তখন এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল এবং যে মানুষগুলো নেমে এসেছিল, সেই মানুষদের ভেতরেও সকল ধর্মের মানুষই ছিল, সকল মত, সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ছিল।
ঠিক একইভাবে, বেশিদিন আগের কথা নয়, দু-আড়াই বছর আগের কথা। বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এদেশের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, তাকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে ছেড়েছে। আমরা যদি সেই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের দৃশ্য দেখি, তাহলে দেখব সেই দৃশ্যর মধ্যে আমরা এই বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলন সেখানে হয়েছিল। সকল মানুষকে আমরা দেখেছিলাম দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, প্রতিটি পেশার মানুষ সেই রাজপথে সেদিন নেমে এসেছিল তাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কথাগুলো আমার বলার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে যে দেখুন, এই দেশটি হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে, শান্তিতে আমরা সকলে মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই, বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষ এ দেশে শান্তিতে একসাথে বসবাস করেছি, আগামী হাজার বছরেও যাতে আমরা একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।
আমরা যেমন সকলে মিলে সকল ধর্মের মানুষ মিলে এদেশকে স্বাধীন করেছিলাম, সকল ধর্মের মানুষ একসাথে আমরা এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম-মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে এদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়—যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায়, আর যে ভোট দেয়নি তার জন্যও এই সরকার সরকার হতে চায়।
অর্থাৎ, আমরা সকল এলাকা বা সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকল এলাকার উন্নয়ন আমরা সমানভাবে, রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আছে তার ওপরে বিবেচনা করে আমরা সকল এলাকার সমবণ্টন করে সকল এলাকা সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই।
অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে সকল বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই। এই পরিবর্তনের জন্য সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ এবং এই জনগণকে আমরা বর্তমান সরকার অতীতের মতন বর্তমানেও পাশে দেখতে চাই।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী রংপুর- ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বক্তব্য দেন।
পরিদর্শন শেষে ধর্মসভা-রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে দশ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: