• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

বাফুফের বিরুদ্ধে ফিফায় যাওয়ার হুঁশিয়ারি পরিবেশবাদীদের

প্রকাশিত: ২২:২১, ২০ জুলাই ২০২২

ফন্ট সাইজ
বাফুফের বিরুদ্ধে ফিফায় যাওয়ার হুঁশিয়ারি পরিবেশবাদীদের

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় সংরক্ষিত বন ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষিত জঙ্গল খুনিয়াপালংয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) জায়গা বরাদ্দ প্রদান করা বাংলাদেশের সংবিধান, বিদ্যমান আইন ও আদালতের আদেশের লঙ্ঘনের সামিল বলে মনে করছেন ১১টি নাগরিক আন্দোলন সংগঠন। বুধবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। 

‘নিজেরা করি’ সংগঠনের সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, ‘আমরা বিদেশে গিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে স্বাক্ষর করে অঙ্গীকার করে আসি আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু আইন পালন করবো, কিন্তু বাস্তবে পালন না করে আইনকে অলঙ্কারস্বরূপ রেখে দেওয়া হয়। এমনকি হাইকোর্টের আদেশকেও অমান্য করা হয়। সরকার পরিবেশ, প্রকৃতি ও দেশকে হুমকিতে ফেলবে এমন বনভূমি জলাভূমি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও সংবিধানের লঙ্ঘন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ইচ্ছে মতো বরাদ্দ দেয়া বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই টেকনিক্যাল সেন্টার হোক তবে তা দেশের প্রকৃতি ও সম্পদকে নষ্ট করে নয়।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংবিধান সম্মতভাবে দেশ পরিচালনা করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার যদি স্থাপনা নির্মাণে বনভূমি ধ্বংস করে তা হবে আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন। সরকারের এ ধরনের লঙ্ঘনে অসাধু জনগণ সুযোগ পেয়ে তারা আরও বেশি আইনের লঙ্ঘন করে প্রকৃতিকে নষ্ট করে। কক্সবাজারের বনভূমির এক তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এই দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। ফুটবলে আমরা তৃতীয় সর্বনিম্ন স্থানে আছি, তাই আমরা চাই সেন্টার নির্মাণ হোক। কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংস করে নয়। বনভূমি ধ্বংস করে সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনার মাধ্যমে বাফুফে তাদের ফুটবল নীতি লঙ্ঘন করেছে। আমরা আশা করছি বনভূমি ধ্বংসের এই স্থাপনায় ফিফা কোনো বিনিয়োগ করবে না।’

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বন ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মাণ করলে আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু ব্রিজ, সেন্টার আর রাস্তা রেখে যাওয়া যাবে, কিন্তু বন ও জলাভূমি থাকবে না। আমাদের পরিবেশ মন্ত্রণালয় বন ও প্রকৃতি ধ্বংস করার সুযোগ করে দিয়েছে। কক্সবাজারে এই স্থাপন নির্মাণের পেছনে কোনো যুক্তি নেই। এ ধরনের কাজ মন্ত্রণালয়ের চরম অসংবেদনশীলতা। যদি এমন কাজ করে তাহলে জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে অধিদপ্তর আর মন্ত্রণালয় রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।’

নাগরিক আন্দোলন নেতা স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘যে উন্নয়ন জীবনকে হুমকিতে ফেলে সেটি উন্নয়ন হতে পারে না। বন বানানোই চরম উন্নয়ন, যার উদাহরণ মধ্যপ্রাচ্য। মরুভূমিতে একটি গাছের পরিচর্যায় তারা প্রচুর অর্থ খরচ করে। অকারণে একটি গাছ মারা গেলে তার জন্য বিচারের আওতায় আনা হয়। আর আমরা বন ধ্বংস করি। পৃথিবীর এমন কোনো রাজধানী নেই যার চারপাশে ৫টি নদী আছে কিন্তু সেটি ঢাকা শহরের আছে। আর কলকারখানার বর্জ্য, সুয়ারেজের পানি এসব নদীতে ফেলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছি। আমরা চাইলে যে ভালো কিছু করতে পারি তার উদাহরণ হাতিরঝিল। আমার মনে হয় আমলারা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন আর কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এর মাধ্যমে তিনি আগের অপরাধীদের ক্ষমা করে দেন।’

লিখিত বক্তব্যে গ্রিন কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘দেশের বনভূমি রক্ষায় রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি। রয়েছে আইন, নীতি, আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্দোবস্তযোগ্য পতিত জমি ও অকৃষি খাস জমি থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বনভূমিকে উন্নয়নের নামে বনবিরুদ্ধ ব্যবহারের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। ইতোপূর্বে এই মন্ত্রণালয় কক্সবাজার জেলার ঝিলংজা মৌজার ৭০০ একর বনভূমি বঙ্গবন্ধু একাডেমি ফর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রতিষ্ঠার জন্য বরাদ্দ প্রদান করেছিল, যা আদালতের আদেশে স্থগিত আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নিজেরা করি সংগঠনের সমন্বয়কারী খুশী কবির। সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। এর আয়োজক সংস্থাগুলো হলো- অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), নিজেরা করি, গ্রিন কক্সবাজার, ইয়ুথ ইনভায়রনমেট সোসাইটি (ইয়েস), কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলন, সেইভ দ্যা কক্সবাজার।

বিভি/কেএস/এএন

মন্তব্য করুন: