খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে হালুয়াঘাটে নাগরিক শোকসভা ও শোক মিছিল
বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় নাগরিক শোক সভা ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে হালুয়াঘাট পৌর শহরে ডিএস মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত শোক সভা ও পরবর্তী মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপি ঘোষিত ৭ দিনের শোক কর্মসূচীর শেষ দিনে হালুয়াঘাটে এই সার্বজনীন শোক সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন, সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠন নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নারী, খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম-ওলামা, হিন্দু - খ্রিষ্টান-গারো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ যোগ দেন এবং শোক মিছিলে অংশ নেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষ, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শোক সভা পরিণত হয় এক আবেগঘন জনসমুদ্রে। শোক প্রকাশে অংশগ্রহণকারীরা কালো পোশাক পরিধান করে হাতে কালো পতাকা বহন করেন। শোক মিছিলের অগ্রভাগে বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল প্রতিকৃতি বহন করা হয় ।
শোক মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। হালুয়াঘাট ডিএস মাদরাসা মাঠ থেকে শুরু হয়ে শোক মিছিল রেজিস্ট্রি অফিস, হাসপাতাল, উপজেলা, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, জিরো পয়েন্ট, চৌরাস্তা, চিত্রা হল, ধান মহাল, উত্তর বাজার, শহীদ মিনার হয়ে হাইস্কুল রোডে যেয়ে শেষ হয়।
শৃঙ্খলা ও নীরবতার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা দেশনেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
শোক মিছিলটি বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল প্রতিকৃতি ও কালো পতাকা নিয়ে ধীর পায়ে যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, পার্শ্ববর্তী বাসা বাড়ি, দোকান, বাজারে জনগণের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
শোক সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু বিএনপি পরিবারের শোক নয়—এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি ভয়কে জয় করে সত্য ও ন্যায়ের পথে আজীবন অবিচল ছিলেন। তিনি ছিলেন গ্রাম - শহরের মানুষের আস্থার ঠিকানা , নির্ভরতার নাম।”
তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার জুলুম, কারাবরণ, নিপীড়ন ও অবিচারের শিকার হয়েছেন। চরম অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি কখনো জনগণের অধিকার, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি। তার রাজনীতি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য, দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য নিবেদিত।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন,“আজ যখন বাংলাদেশ গণতন্ত্রের লক্ষ্যে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলেছে , তখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শূন্যতা আরও গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। তার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের নের্তৃত্বে নির্বাচনী যুদ্ধে জগনের মন জয় করে বেগম জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ণ করতে হবে । তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন—কঠিন ও সংকটের সময়েও ভয় নয়, সাহসই হবে রাজনীতির মূল শক্তি। তিনি গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পাঠশালায় পরিণত হয়েছিলেন।”
প্রিন্স দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “দেশনেত্রীর আদর্শ ধারণ করেই বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়া এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র গঠনের নিশানা স্থির রাখবে। জনগণের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ঋণ নাই। জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার কাছে চির ঋণী। এই ঋণ কোনও দিন শোধ করা যাবে না।”
তিনি বলেন “শোক কে শক্তিতে পরিণত করে অসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা দিয়ে জনগণ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সন্মান জানবে ইনশাআল্লাহ ।” তিনি এনসিপির এক নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “খালেদা জিয়াকে ব্যাবহার করে বিএনপির রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার প্রয়োজন নাই। এধরণের হীনমন্যতা বিএনপির নাই । তবে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বাংলাদেশ যেমন জড়িয়ে আছে, তেমনি বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়া অভিন্ন ও অভিচ্ছেদ্য।”
তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন—তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা, গণতন্ত্রের মূর্ত প্রতীক এবং আপসহীন রাজনীতির জীবন্ত ইতিহাস। তার ত্যাগ, ধৈর্য, সাহস ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে। তিনি অমর হয়ে থাকবেন আমাদের সাহস, সংগ্রামে, প্রত্যয়ের মাঝে । “
হালুয়াঘাট বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক শোক সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, উপজেলা জামায়াতে ইসলমীর আমীর মোয়াজ্জেম হোসেন মাষ্টার, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর আলম বিপ্লব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মওলানা আমিনুল ইসলাম , হালুয়াঘাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম আহম্মদ, আমদানীকারক রফতানীকারক সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক অশোক কুমার সরকার, আদর্শ মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা স্নিগ্ধা হালদার, সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মজিবর রহমান, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সাহা, ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সুবীর সরকার, হালুয়াঘাট ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সুভ্রত রেমা, শিক্ষক কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন এর সভাপতি আবু তালেব, ইউপি মেম্বারস এসোসিয়েশনের সভাপতি সায়েদুল ইসলাম, হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি হাতেম আলী, সুমন শুভ, গণ অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য সায়েদুল ফরাজী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রেজাউল করিম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ত্যাগ, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
শোক সভা শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় মহান আল্লাহর কাছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির জন্য শান্তি, গণতন্ত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করা হয়।
বিভি/এজেড




মন্তব্য করুন: