• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব ইস্যুতে হাসনাতের স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল

প্রকাশিত: ২৩:০১, ৪ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২৩:০১, ৪ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব ইস্যুতে হাসনাতের স্ট্যাটাস মুহূর্তেই ভাইরাল

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির আভিযোগ উঠেছে। উপদেষ্টার পদ ছেড়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণার পর এই সমালোচনা আরও বেড়েছে। এর পরই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ। 

আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব ও ঘটা করে তা প্রকাশের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। 

বুধবার (৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

রাত ৯টা ২২ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, "আজ তলব করা হয়েছিল শুধু আসিফ মাহমুদকে। আসিফ মাহমুদ তার পরিবারের ৪ জনের মোট ৯টি অ্যাকাউন্টের ব্যাংক স্টেটমেন্ট আজ প্রকাশ করেছেন। আসিফ মাহমুদদের সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ তারা আইনানুযায়ী সকল বিধি মেনে নিজের ও পরিবারের সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট প্রকাশ করছেন। মিথ্যা, অপপ্রচার, এত-শত মিডিয়া ট্রায়াল—উৎপাদিত দুর্নীতির অভিযোগ দিনশেষে স্রেফ অভিযোগ হিসেবেই থাকবে। প্রমাণিত আর হবে না।"

ফেসবুকে মুহূর্তেই হাসনাত আবদুল্লাহর এই স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে যায়। ১২ মিনিটের মধ্যেই তার স্ট্যাটাসটিতে এক ঘণ্টায় দেড় লাখের বেশি রিয়েকশন পড়েছে। সেই সঙ্গে হাজারের বেশি মানুষ স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে নানা মন্তব্য করার পাশাপাশি প্রায় আড়াই হাজার আইডি থেকে হাসনাত আবদুল্লাহর স্ট্যাটাসটি শেয়ার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেরসহ পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জনসম্মুখে উন্মুক্ত করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়া প্রয়োজন। যাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।

তিনি বলেন, গতকাল আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেই, যাতে এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।

এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দেই তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এরমধ্যে সোনালি ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সবমিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ সবকিছু মিলে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আমার দু’টি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত