• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

কারাবন্দী তারেক রহমানের বিভীষিকাময় সেই দিনগুলো

প্রকাশিত: ১৩:৪৭, ৭ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কারাবন্দী তারেক রহমানের বিভীষিকাময় সেই দিনগুলো

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস আজ। দেশি-বিদেশি নানা চক্রান্তের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ ভোররাতে এক-এগারো সরকার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে ঢাকার বাসভবন থেকে আটক করা হয় তারেক রহমানকে। 

ওই সময় তারেক রহমানের ওপর বয়ে গেছে বিভীষিকা। সেই সময়ের ঘটনাগুলো নিয়ে আজকের দিনে বিশেষ লেখা প্রকাশ করেছে বিএনপি মিডিয়া সেল। শনিবার (৭ মার্চ) বিএনপির মিডিয়া সেলের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রান্তের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ ভোররাতে অবৈধ এক-এগারো সরকার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে ঢাকার বাসভবন থেকে আটক করা হয় তারেক রহমানকে। যা ছিল সামগ্রিকভাবে এদেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির যে স্বপ্ন রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, সেই স্বপ্নকে সেদিন বন্দি করা।  

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তারেক রহমানের নামে ১৩টি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করার পাশাপাশি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ডিটেনশনও দেয়া হয়। তাকে ছয় দফায় ১৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনও করা হয়। তারপরও দেশ ও রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার চাপ প্রয়োগ করা হয়। দেশ ও দেশের জনগণের কথা ভেবে কুশীলবদের কোনো প্রস্তাবেই রাজী হননি তিনি। ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে তারেক রহমান তার উপর করা অমানবিক নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেন। 

সীমাহীন নির্যাতনে কারাগারে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে যান তারেক রহমান। এসব বিষয়ে মিডিয়া সেলে বলা হয়েছে, সরকারের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন ও যথোপযুক্ত সময়ে চিকিৎসা না হওয়ায় তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ২০০৮ সালের ৩১ শে জানুয়ারি তাকে পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। এরপর আদালতের চিকিৎসকদের দেয়া মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়, তারেক রহমানের স্পেশালাইজড অর্থোপেডিক ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন। নির্যাতনে তার মেরুদণ্ডের ৬ ও ৭ নং হাড় ভেঙে গেছে। কয়েকটি হাড় বেঁকে গিয়েছে। মেরুদণ্ডের ৩৩ টি হাড়ের দূরত্ব কমে গিয়েছে। চোখে ও হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে তিনটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমানকে বিদেশের অর্থোপেডিক, ফিজিওথেরাপি, কার্ডিওলজি ও রেডিওগ্রাফির সুবিধা সংবলিত যে কোনো হাসপাতালে অতি দ্রুত ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কারাবান্দী অসুস্থ তারেক রহমানের মুক্তির জন্য শুরু হয় আন্দোলন। ফুঁসে উঠে রাজপথে নামে মানুষ। মিডিয়া সেল লিখেছে, এরপর তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হতে থাকলে তার নিঃশর্ত মুক্তি লাভ ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে রাজপথে শুরু হয় আন্দোলন। এতে সরকারের টনক নড়ে এবং তারা তারেক রহমানকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিতে সম্মত হয়। কিন্তু আত্মপ্রত্যয়ী ও নির্ভীক তারেক রহমান নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনড় থাকেন এবং এক পর্যায়ে উচ্চ আদালত থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি লাভ করেন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পান। 

এখানেই শেষ নয়, ১/১১ সরকারের ধারবাহিকতায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সারাদেশে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক শতাধিক মামলা দায়ের করে।

বিএনপি নেতারা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন। দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা। 

তাই কারাবন্দী দিবসটি বিএনপির কাছে শুধু একটি স্মৃতির দিন নয়, বরং রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত