স্বর্ণের জাকাত নির্ধারণে ক্রয়মূল্য ধরতে হবে নাকি বিক্রয়মূল্য?
জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। সম্পদশালী মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকলে তার ৪০ ভাগের এক ভাগ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করা ফরজ। এটি সম্পদের পবিত্রতা ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। যার কাছে সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ এক বছর থাকবে, তাকে জাকাত আদায় করতে হবে।
জাকাত দেওয়ার সময় স্বর্ণের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করতে হবে? বর্তমানে বাজার থেকে স্বর্ণ ক্রয় করতে গেলে যে দাম নির্ধারণ করা থাকে সেটা ধরতে হবে? নাকি বর্তমানে বাজারে স্বর্ণ বিক্রি করতে গেলে যে ১৫% বা ১৬% কমিশনে বা কম দামে স্বর্ণ বিক্রি করা হয় সেই দাম ধরে, তার ওপর জাকাত নির্ধারণ করতে হবে? নাকি অন্য কোনোভাবে জাকাত নির্ধারণ করতে হবে?
যে মানের স্বর্ণ মালিকের কাছে আছে, তা বর্তমান বাজারে বিক্রি করতে গেলে যে দরে বিক্রি করা যাবে, সেই মূল্য ধরে জাকাত আদায় করা যাবে। তবে বর্তমান বাজারে ক্রয় করতে গেলে যে মূল্য লাগবে সেই দাম ধরে জাকাত দেওয়া উত্তম। কারণ, এতে গরীবের উপকার বেশি হয়।
‘ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, যে বস্তু দেওয়া হবে তার ওজন যেন নির্ধারিত ওয়াজিব পরিমাণের সমান হয়— এটিই বিবেচ্য। আর ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) গরিবদের জন্য যা বেশি উপকারী, সেটিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।’ (রদ্দুল মুহতার ৩/২২৭, জাকারিয়া সংস্করণ; কারতাশি সংস্করণ ২/২৯৭)
واعتبراهما يوم الاداء إذا الأصل هو اداء اجزاء من النصاب، وللمزكى حق النقل إلى القيمة فيعتبر يوم النقل، وهو وقت الأداء، وصار كما لو نقصت بعفونته وكالسوائم وهو الأظهر لما قلنا (البرهان شرح مواهب الرحمن، مخطوطة-1/507)
‘ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) উভয়ের মতে, হিসাব ধরা হবে জাকাত আদায়ের দিনের ভিত্তিতে। কারণ মূলত নেসাবের একটি অংশই আদায় করা হচ্ছে। তবে জাকাত দাতার জন্য মূল বস্তু না দিয়ে তার মূল্য দেওয়ারও অধিকার আছে। সে ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করা হবে যেদিন মূল্য দিয়ে আদায় করা হয়, অর্থাৎ আদায়ের সময়ের হিসেবে। (আল-বরহান শরহ মাওয়াহিবুর রহমান (পাণ্ডুলিপি), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫০৭)
ولو أراد يؤدى القيمة جاز عندنا، لكن عند أبى حنيفة فى الزيادة والنقصان جميعا يؤدى قيمتها يوم الحول، وعندهما فى الفصلين جميعا يؤدى قيمتها يوم الأداء فى النقصان وفى الزيادة (بدائع الصنائع، زكريا-2/115، كرتاشى قديم-2/23)
‘যদি কেউ জাকাতের বস্তু না দিয়ে তার মূল্য (টাকা) দিতে চায়, তবে আমাদের মতে তা বৈধ। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মূল্য বৃদ্ধি হোক বা কমে যাক—উভয় অবস্থাতেই নেসাব পূর্ণ হওয়ার দিন (হাওল পূর্ণ হওয়ার দিন) অনুযায়ী মূল্য দিয়ে জাকাত আদায় করতে হবে।
আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, উভয় ক্ষেত্রেই আদায়ের দিনের মূল্য বিবেচনা করা হবে— মূল্য কমলেও এবং বাড়লেও জাকাত আদায় করা হবে সেই দিনের মূল্য অনুযায়ী।’ (বদায়েউস সানায়ে ২/১১৫, জাকারিয়া সংস্করণ; কারতাশি পুরাতন সংস্করণ ২/২৩)
বিভি/টিটি



মন্তব্য করুন: