• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

শুধু ২৭ রমজান নয়, আরও যেসব রাতে হতে পারে শবে কদর

প্রকাশিত: ০২:২০, ১৩ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
শুধু ২৭ রমজান নয়, আরও যেসব রাতে হতে পারে শবে কদর

প্রতীকী ছবি

হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ একটি রাত ‘লাইলাতুল কদর। কেউ কেউ এ রাতকে শবে কদর হিসেবে জানে। এ রাতের যে কোনো আমলই হাজার মাসের আমল থেকে শ্রেষ্ঠ। অনেককেই মনে করেন, এটি ২৭ রমজানের রাত। কিন্তু বিষয়টা তেমন না। মর্যাদার এ রাতটি কবে হবে তা সুস্পষ্ট বা নির্দিষ্ট করে বলার বা জানার কোনো সুযোগ নেই। 

তবে এ কথাটি সুস্পষ্ট যে, তা রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় যে কোনো রাতে হবে। সে আলোকে তা হবে- ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাত। অর্থাৎ ২০ রমজান দিবাগত রাত, ২২ রমজান দিবাগত রাত, ২৪ রমজান দিবাগত রাত, ২৬ রমজান দিবাগত রাত এবং ২৮ রমজান দিবাগত রাত।

কেউ কেউ শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে ২৭ রমজান তথা ২৬ রমজান দিবাগত রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কেও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

'যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা ২৭ রমাজনের রাতে অনুসন্ধান করে।' (মুসনাদে আহমাদ)

অন্য যে রাতগুলোও সম্ভাবনাময়

২৭ রমজানের রাত ছাড়া লাইলাতুল কদর পাওয়ার বেশি সম্ভাবনাময় রাতগুলো হলো- ২৫ রমজানের রাত, ২৯ রমজানের রাত, ২১ রমজানের রাত, ২৩ রমজানের রাত।

লাইলাতুল কদরের বিশেষ নিদর্শন
রাতটি বেশি অন্ধকার হবে না। গরম ও শীতের তীব্রতা থাকবে না। অর্থাৎ সুন্দর শান্তিদায়ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। মৃদু শীতল (বসন্তের) বাতাস প্রবাহিত হবে। সে রাতের ইবাদতে মানুষ বিশেষ তৃপ্তি অনুভব করবে। যা অন্য রাতের ইবাদতে অনুভূত হয় না। প্রকৃত ঈমানদার রোজাদার স্বপ্নে তা জানতে পারবে। সে রাতে রহমতের বারিধারায় (বৃষ্টিতে) সিক্ত হবে জমিন এবং পূর্ণিমার চাঁদের মতো হালকা আলোক রশ্মিসহ সূর্য উদয় হবে।' (ইবনে খুযায়মাহ, বুখারি, মুসলিম)।

এ জন্য রাতটি মর্যাদার বা সৌভাগ্যের। তাইতো মহান আল্লাহ এ রাতটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতেও হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’ (বুখারি)

এটি এমন একটি মহিমান্বিত রাত, যে রাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। আল্লাহ–তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আমি এটি নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে।” (সুরা দুখান, আয়াত: ৩)

এবং তিনি আরও বলেন, “সে রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়।” (সুরা দুখান, আয়াত: ৪)

এই রাতের ইবাদতের মর্যাদা এত বেশি যে সম্মানিত ফেরেশতাগণও এ রাতে আল্লাহর অনুমতিতে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। হাদিসে এসেছে, “লাইলাতুল কদরের রাতে ফেরেশতারা এত সংখ্যায় অবতরণ করে যে তাদের সংখ্যা পাথরকুচির চেয়েও বেশি।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১০৭৩৫)

দেখতে দেখতে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিচ্ছে রমজান। বাকি রাতগুলোর মাঝে আমাদের প্রত্যেকের চেষ্টা করা উচিত, শবে কদর তালাশ করা। যেন কোনোভাবেই এই রাতটি মিস না হয়ে যায়। কেননা মৃত্যু আসতে পারে যখন-তখন। এই রাত আবারও ফিরে আসবে কীনা সে নিশ্চয়তা তো কেউই দিতে পারে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করে নিন। আমিন

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: