বরিশাল সিটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, স্বস্তিতে নগরবাসী
পরিপত্রের বাইরে গিয়ে বেতন বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে মানববন্ধন করা পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ২০০০ টাকা বোনাস এবং অন্যান্য দাবি দাবা পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করার আশ্বাস দেয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারা।
এর আগে টানা প্রায় ১ সপ্তাহ কর্মবিরতি পালন করায় চরম বিপাকে পড়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ফলে ময়লার ভাগারে পরিনত হয় বিসিসির সিটির রাস্তাঘাট।
পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারীরা জানান, আজ আমরা কয়েকদিন যাবত টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করে যাচ্ছি। গত বছর আমরা ৩০ দিনের বেতন এবং বোনাস পেয়েছি। কিন্তু এ বছর তা দেয়া হচ্ছে না। বোনাস চাইলে বিধি-নিষেধ এবং নিয়ম-নীতির কথা বলেন কর্মকর্তারা।
এদিকে নগরবাসী বলছেন, কিছু হলেই সিটি কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করে জনগণের ভোগান্তি করছে। দুর্গন্ধে রাস্তা থেকে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। যেভাবে হোক এটি আলোচনা করে সমাধানের দাবি জানান নগরবাসী।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, ডেইলি মজুরি ভিত্তিক কতিপয় কর্মচারী স্থায়ী কর্মচারীদের মত বেতন বোনাস দাবি করছে। সরকারের সব শেষ পরিপত্র অনুযায়ী তাদের সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও তারা অযৌক্তিকভাবে ঈদ বোনাস সহ নানা দাবি তুলে ধরেছেন। প্রশাসক স্যার মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে ১০০০ টাকা করে ১৪০০ শ্রমিককে ইফতার বাবদ দিয়েছেন। সেটি দুস্থ অসহায় গরীবদের ফান্ড থেকে তাদের দেওয়া হয়েছে। দেয়ার পরপরই তাদের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তারা পূর্ণাঙ্গ বোনাস দাবি করছে। কিন্তু এটি পরিপত্রের বাইরে গিয়ে দিতে গেলে অডিট আপত্তির মুখে পড়তে হবে।
বিভাগীয় কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের চলতে হয়। নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু দিতে গেলে সেটি আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে দিতে হবে। আমার অবসর ভাতা থেকে কেটে নিবে। তদুপরি আমরা যতটুকু পারি দিয়েছি। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে দেয়া তো সম্ভব না। তবে আজ বিকেলে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দেখে কিভাবে সমাধান করা যায়। পরে উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ বৈঠকে দাবিদাওয়া আংশিক মেনে নিয়ে নেয়ায় সমস্যা সমাধান হয়।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: