• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

বাবা’র পর মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ রুবিনার একমাত্র ছেলে

প্রকাশিত: ০৭:১৩, ৪ ডিসেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
বাবা’র পর মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ রুবিনার একমাত্র ছেলে

রুবিনার আক্তারের সঙ্গে ছেলে রোহান

মাত্র ১৬ মাস আগে বাবাকে হারানোর পর এবার মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রাইভেটকার চাপায় নিহত রুবিনা আক্তারের একমাত্র ছেলে ১২ বছরের আরাফাত রহমান (রোহান)। মাকে হারিয়ে শুরু কেঁদেই যাচ্ছে রোহান। শনিবার সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থানে রুবিনার দাফনের পর এ কথা বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন রুবিনার ছোট বোন সুলতানা লিপি।

তিনি বলেন, ‘করোনায় রোহানের বাবা মারা যান ১৬ মাস আগে। এরপর মা-ই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলেটার আর কেউ রইল না। ভাগিনা আমার একা হয়ে গেল।’

রোহানের মামা জাকির হোসেন বলেন, ‘কাল থেকে ভাগিনার কান্না থামছে না। কী বলে সান্ত্বনা যে দেব। ছেলেটা বাবা হারাল, মাও হারাল। এতিম হয়ে গেল। আর এত নিষ্ঠুর মৃত্যু হলো বোনের।’ তবে ভাগিনা তার সন্তান হয়ে থাকবে জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘রোহান আমার নিজেরই সন্তান। সে আমার সন্তান হিসেবে থাকবে।’

বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ‘খুব নির্মমভাবে বোনটার মৃত্যু হয়েছে। আমার বোনকে বাঁচাতে পারলাম না। মোটরসাইকেলে আমার হাজারীবাগের বাসায় আসতেছিল রুবিনা। শাহবাগ পার হয়ে সড়কে তাকে প্রাইভেটকার ধাক্কা দেয়। তারপর নীলক্ষেত পর্যন্ত তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। তার কী যে কষ্ট হচ্ছিল আমি অনুভব করি। আমার বোনটা বাঁচতে পারত। আমরা মামলা করেছি। সঠিক বিচার আমরা চা।'

রুবিনার বোন সুলতানা লিপি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর রুবিনা একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন। সেও যে চলে যাবেন, এটা কখনো ভাবতে পারিন।

ঢাকা মেডিকেলে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন ঢাবির সাবেক শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহ’র জ্ঞান ফিরেছে। তবে পুলিশের কড়া পাহারায় থাকা এই ঘাতক শিক্ষকের জ্ঞান ফিরলেও এখনও চোখ খুলতে পারেননি।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের ১০১ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে এই দৃশ্য। সেখানে একজন পুলিশ ও একজন আনসার সদস্য কড়া পাহারায় ওই শিক্ষককের চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন। এসময় আজহার জাফর শাহ’র বাসার নারী গৃহকর্মী ও একজন কেয়ারটেকারকেও তার বেডে বসে থাকতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী গৃহকর্মী বলেন, বিকাল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরেছে। কেমন আছেন জানতে চাইলে শুধু বলেছেন- ভালো। আর কিছু বলছেন না। তবে এখনও চোখ খুলতে পারছেন না। পাবলিকের বেধম মাইরের কারণে মাথা ও চোখ থেতলে গেছে।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহর চলন্ত প্রাইভেটকার। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে আরোহী রুবিনা প্রাইভেটকারের নিচে আটকে পড়েন। ওই অবস্থায় রুবিনাকে টেনে-হিঁচড়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে টিএসসি হয়ে নীলক্ষেত এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এই ঘটনায় দেখতে পেয়ে উপস্থিত জনতা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলেও চালক গাড়ি থামাননি। পরে নীলক্ষেত মোড়ে গিয়ে গাড়ি আটকে যায়। এসময় চালককে গণপিটুনি দেন উপস্থিত জনতা।

বিভি/এইচএস

মন্তব্য করুন: