আবারও কাঁদলো চট্টগ্রাম, ৬ বছর পর বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী
ম্যাচ শেষেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মুশফিকুর রহীমসহ দলের সবাই।
কখনো কিংস, কখনো ভাইকিং আবার কখনো রয়্যালস, বারবার ফ্র্যাঞ্চাইজি বদলালেও বিপিএলে ভাগ্য বদলালো না চট্টগ্রামের। এবারো হলো না শিরোপা ছোঁয়া। সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ঘরে তুললো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এবারের আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। শুরুতে নেমে ২০ ওভারে ১৭৪ রান করে রাজশাহী। জবাবে ১১১ রানে থামে চট্টগ্রামের ইনিংস।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। ৮৩ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ তামিম। ফারহান ৩০ বলে ৩০ ফিরে গেলেও ঝড়ো গতিতে খেলতে থাকেন তানজিদ।
উইলিয়ামনসের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়েন। ১৫ বলে ২৪ রানে ফিরে যান নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক উইলিয়ামসন। পরে জিমি নিশামের সাথে ৩৩ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত শতরানের মাথায় বিদায় নেন তানজিদ। ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংসটি ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় সাজিয়েছিলেন এই ওপেনার।
৬ বলে ৭ রানের অপরাজিত ছিলেন নিশাম। অপরপ্রান্তে ইনিংসের শেষ বলে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে ৭ বলে ১১ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চট্টগ্রামের হয়ে মুকিদুল ইসলাম ২০ রানে ২টি এবং শরিফুল ইসলাম ৩৩ রানে দুটি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া আর কেউই সফলতা পাননি।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বন্দরনগরীর দলটি। দলীয় ১৮ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটার। ১০ বলে ৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আর ২ বল খেলে রানের খাতায় খুলতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। এদিকে হাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১১ রান।
চতুর্থ উইকেটে ব্যাট করতে নামেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জাহিদুজ্জামান। তাকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে যান মির্জা বেগ। কিন্তু দুজনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে ম্যাচটি চট্টগ্রামের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। আর আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৩৯ রান করেন মির্জা বেগ।
আসিফ আলী ও আমির জামাল আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারননি আমির। একটি ছক্কা হাঁকানোর পর জিমি নিশামের বলে আউট হন ব্যক্তিগত ৮ রানে। অন্যদিকে ১৬ বলে ২১ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন আসিফ আলী। এছাড়া শেখ মেহেদী হাসান ৪, শরিফুল ইসলাম ০, তানভীর ইসলাম ১ ও মুকিদুল ইসলাম ১ রান করেন।
রাজশাহীর পক্ষে ৩ ওভারে মাত্র ৯ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। তিনটি উইকেট নেন হাসান মুরাদ। এছাড়া জিমি নিশাম দুটি ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি উইকেট পেয়েছেন।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: