অনুমতি ছাড়াই কক্ষে আকসুর উপস্থিতি, অসন্তোষ প্রকাশ আফগান ব্যাটারের
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের (আকসু) কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিপিএল দল ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতিফ ফাহাদ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই আকসুর সদস্যরা আফগানিস্তানের তারকা ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজের হোটেল রুমে প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
আতিফ ফাহাদের মতে, এই ঘটনা একজন বিদেশি ক্রিকেটারের জন্য চরম অস্বস্তিকর ও অনভিপ্রেত। হঠাৎ এমন আচরণে গুরবাজ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পুরো বিষয়টির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গুরবাজ সরাসরি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিস্থিতির চাপে দলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও কিছুটা উত্তেজিত কণ্ঠে কথা বলেন আফগান এই ওপেনার।
ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আরও জানান, এই অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে বিপিএলে অংশ নেওয়ার বিষয়ে গুরবাজ দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু গুরবাজ নন, একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন জাতীয় দলের ব্যাটার সাইফ হাসানও। আতিফ ফাহাদের অভিযোগ, রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এবং এমনকি ব্যাটিংয়ে নামার ঠিক আগ মুহূর্তেও আকসুর পক্ষ থেকে সাইফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি দাবি করেন, নাম প্রকাশ না করলেও আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গেই এমন আচরণ করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের মানসিক স্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আকসুর আরেকটি কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আতিফ ফাহাদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে আকসু। এর মধ্যে তার ব্যক্তিগত ফোনও রয়েছে। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও সেই মোবাইল ফেরত না পাওয়ায় স্পন্সর ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়ারিং নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা ক্যাপিটালস। আতিফ ফাহাদের দাবি, ওই ম্যাচে ঢাকার পক্ষে অন্তত তিনটি স্পষ্ট ওয়াইড বল আম্পায়াররা দেননি, যা ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলেছে।
সবশেষে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আতিফ ফাহাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট দলের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে আকসুর আচরণ তুলনামূলকভাবে নমনীয়, অথচ অন্য দলের খেলোয়াড়দের প্রতি সন্দেহপ্রবণ মনোভাব দেখা যাচ্ছে। যদিও তিনি সেই দলের নাম উল্লেখ করেননি।
বিভি/এজেড




মন্তব্য করুন: