• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে আলজেরিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন

প্রকাশিত: ১৪:২৩, ১৯ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বাংলাদেশে আলজেরিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন

বাংলাদেশে আলজেরিয়ার দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় আলজেরিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বারিধারায় অবস্থিত দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ইসলামী চিন্তাবিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর কারি সাখাওয়াত সাখওয়াত খান পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানী ১৯ মার্চ ১৯৬২-এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই দিনে আলজেরিয়ার অস্থায়ী সরকার (জিপিআরএ)-এর প্রেসিডেন্ট বেনইউসেফ বেনখেদ্দা এভিয়ান চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে সমগ্র আলজেরিয়ায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে প্রায় আট বছরের সশস্ত্র সংগ্রাম সমাপ্ত হয় এবং ৫ জুলাই ১৯৬২-এ গণভোটের মাধ্যমে দেশটি স্বাধীনতার পথে প্রবেশ করে।

রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতি আলজেরিয়ার জনগণ এবং ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএন)-এর অসাধারণ ত্যাগের ফল। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলজেরিয়ার মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতির বিষয়ও তুলে ধরেন, যেখানে জাতিসংঘ এটিকে উপনিবেশমুক্তির প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করেছে। সশস্ত্র সংগ্রাম ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব হয় এবং এভিয়ান চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “চিরন্তন গৌরব ও নবায়িত বিজয়” তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আলজেরিয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, মার্চ মাস আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আলজেরিয়ার বিজয় দিবস (১৯ মার্চ) এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) উভয়ই স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক। ১৯৭১ সালে আলজেরিয়া প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে।

সমাপনী বক্তব্যে দূতাবাস আলজেরিয়ার ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং বাংলাদেশে বসবাসরত আলজেরিয়ান সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা, মুক্তি, সংহতি, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় উন্নয়নের মূল্যবোধ রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় এবং আলজেরিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত