• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা

মেধা-যোগ্যতায় ভালো কিছু করলে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:২৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:২৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মেধা-যোগ্যতায় ভালো কিছু করলে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের চার হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী হাফেজদের সম্মানে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’ হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’

মেধাবীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে। এতে দেশের মানুষও উপকৃত হবে।

সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী হাফেজদের শিক্ষকেরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশা আল্লাহ আমরা সেটা দেখব। যতটুকু সম্ভব, আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা ইনশা আল্লাহ সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে হয়তো এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তারা সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সকলে মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।’

সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন। এর আগে প্রতিযোগিতায় যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে চার বাংলাদেশির এই অর্জনের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুরস্কারজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: