দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্প-এর উদ্বোধন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় শাহবাগ সংলগ্ন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. মফিদুর রহমান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) জনাব এ. কে. এম আবদুল্লাহ খান এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প-এর প্রকল্প পরিচালক ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) জনাব মু. বিল্লাল হোসেন খান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, লাইব্রেরি কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষকে কীভাবে বইমুখী করা যায়, সে বিষয়েই আমাদের মনোযোগী হতে হবে। তিনি আরো বলেন, মানুষকে যদি বইমুখী করা যায়, তবেই এ কার্যক্রম প্রকৃত অর্থে সফল হবে। এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি প্রকল্পটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. মফিদুর রহমান এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সারাদেশে অধিক সংখ্যক মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বই পড়ার গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ভালো জাতি বা সমাজ গঠন করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পাঠকদের দোরগোড়ায় ভালো বই পৌঁছে দেবার জন্য। কয়েকটি ভাল বই ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করতে অবশ্যই মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) জনাব এ.কে.এম আবদুল্লাহ খান বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে সারাদেশে যে পাঠক সমাজ তৈরি হচ্ছে, সেটা আগামীদিনে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুচনা বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (যুগ্মসচিব) জনাব মু. বিল্লাল হোসেন খান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্রকল্প সারাদেশে সৃজনশীল পাঠক নির্মাণে ভুমিকা রাখবে এবং সকলের সহযোগতিায় এ কার্যক্রম সামনে এগিয়ে চলবে বলে তিনি তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সারাদেশে মাঠ পর্যায়ে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ির মাধ্যমে ৬৪টি জেলার ৩৬৮টি উপজেলায় ৩ হাজার ২০০টি স্পটে সর্বসাধারণের জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের জন্য বই পঠনের সেবা প্রদান করবে । এর মধ্য দিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার জন পাঠক সৃজনশীল বই পাঠ ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আসবেন। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ সঞ্চার ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ৭০০টি সাংস্কৃতিক সংঘ পরিচালনা এবং আট হাজারটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
বিভি/এসজি



মন্তব্য করুন: