• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বিলুপ্তির পথে রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প

প্রকাশিত: ১৪:৪২, ১২ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিলুপ্তির পথে রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প

প্লাস্টিক আর অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, পুঁজির সংকট আর বাজারে সস্তা বিকল্প পণ্যের সহজলভ্যতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এই শিল্প এখন অস্তিত্বের সংকটে। একসময় যে পেশা ছিলো বহু পরিবারের প্রধান জীবিকা, আজ তা ধরে রাখতে লড়াই করছেন অল্প কিছু কারিগর।

একসময় রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি, তাঁত ও বাঁশ-বেত শিল্পের জন্য সুপরিচিত ছিলো। গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হতো কুলা, ডালা, চাঙারি, টুকরি, মাছ রাখার খালই, ঝুড়ি, খাঁচা এমনকি বিভিন্ন আসবাবপত্রও। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে গৃহস্থালি নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা কাজে ব্যবহৃত হতো এসব বাঁশের তৈরি পণ্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিক ও অন্যান্য আধুনিক পণ্যের দখলে চলে গেছে সেই বাজার। ফলে কমেছে বাঁশজাত পণ্যের চাহিদা ও ব্যবহার।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়- বাঁশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে কাঁচামালের দাম। অন্যদিকে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে আগের মতো উৎপাদন করতে পারছেন না কারিগররা। বংশপরম্পরায় এই পেশায় যুক্ত অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে গেলেও রূপগঞ্জ উপজেলার বেলদী, ভক্তবাড়ি, পুঁটিনা, জিন্দা, আগলা, বাগলা, গুতিয়াব ও আগারপাড়া এলাকায় এখনো প্রায় তিন শতাধিক পরিবার টিকিয়ে রেখেছেন এই ঐতিহ্য।

এখানে তৈরি বাঁশের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, গাজীপুর, কালীগঞ্জ, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন বাজার ও গোলাকান্দাইল হাটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

কারিগররা জানান, একটি পণ্য তৈরি করতে অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় হলেও সেই অনুযায়ী ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। পুঁজির সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা থাকলে এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

তবে, সরকারি উদ্যোগে কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে এই শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান প্রশাসন।

বাঁশ শিল্প শুধু জীবিকার উৎস নয়, এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। না হলে আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে পারে শত বছরের এই ঐতিহ্য আর  কর্ম হারাতে পারে কয়েক শত পরিবার। 
 

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: