• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

Inhouse Drama Promotion
Inhouse Drama Promotion

ব্রিজ ১ বছরে নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়নি ৫ বছরেও

তারিকুজ্জামান লিটু, নড়াইল

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৯:৪০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
ব্রিজ ১ বছরে নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়নি ৫ বছরেও

কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে মাত্র ৬০ ভাগ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর বারইপাড়া পয়েন্টে নির্মানাধীন বারইপাড়া ব্রিজ ১ বছরে শেষ হওযার কথা থাকলেও ৫ বছরেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। জনভোগান্তি শেষ হয়েও যেন হচ্ছে না শেষ। এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবীতে নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে জেলার কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর বারইপাড়া নামক স্থানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালে এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। 

নদী বেষ্টিত জেলা নড়াইলের যোগাযোগের প্রধানতম অন্তরায় সরাসরি নৌ পারাপার। খরস্রোতা নবগঙ্গা নদী নড়াইল জেলা শহর ও কালিয়া উপজেলাকে দুই ভাগে ভাগ করে রেখেছে উত্তর-দক্ষিনে। নদীর উত্তরে ৮টি ইউনিয়ন ও দক্ষিনে ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে কালিয়া উপজেলা। এ উপজেলায় প্রায় ২৩১টি প্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বিশেষ করে জেলা শহরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলার সরাসরি যোগাযোগের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। কালিয়া উপজেলাকে নড়াইল জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এই নদী। জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কালিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষের। সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কালিয়ার বারইপাড়া ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসির প্রানের দাবি ছিল। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বারইপাড়া ঘাট দিয়ে নদী পার হয়ে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকেন। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এখানে গড়ে ওঠেনি কোনো শিল্প-কলকারখানা। এলাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য শহরে আনতে চরম দুর্ভোগে পড়েন। এছাড়া এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটলে পুলিশ যথাসময়ে ঘটনাস্থলে আসতে পারে না। আগুন লাগলে দমকল বাহিনী ও জরুরী রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত পৌঁছাতে পারে না। ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সেতুটি নির্মাণ শুরু হলে যারা সবচেয়ে খুশি হয়েছিলেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি হতাশ। 

নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী এ, এম আতিক উল্লাহ জানান, নবগঙ্গা নদীর ওপর বারইপাড়া সেতু নির্মাণের কাজ শুরুর পরই কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। এ নদীতে নৌ চলাচলের জন্য কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হয় নির্মাণ কাজ। সাথে অবাধে নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ে। নকশা সংশোধন করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এসে পরিদর্শন করে অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ দিলে কাজ পূর্ণরায় শুরু হবে। আর সে ক্ষেত্রে ব্যয়ও প্রায় ২ গুনে বেড়ে যাবে। সেতু নির্মাণের জন্য এক বছর সময় বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

 সেতুটি নির্মাণ শুরু হলে যারা সবচেয়ে খুশি হয়েছিলেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশী হতাশ
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কবিরুল হক মুক্তি জানান, কালিয়ার মানুষের অনেক আশা স্বপ্ন ছিল নবগঙ্গা নদীর উপর ব্রিজ। সেটাকে অনুধাবন করে সরকারের সদিচ্ছা, আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টার কারণে এই ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যারা নির্বাহী কাজগুলো বাস্তবায়নের সাথে জড়িত, যারা ডিজাইনের সঙ্গে জড়িত এদের ত্রুটির কারণে এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে, আমাদের একটা হতাশা তৈরি হয়েছে।  তারপরেও  কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে এই সরকারে মেয়াদেই সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশ্বস্থ করেছেন।

 ব্রীজ নির্মানে এই দীর্ঘসূত্রিতায় ব্যয়ও প্রায় দ্বিগুন বেড়ে যাবে
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায় ৬৫১.৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬৮ কেটি টাকা। ১৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে এ সেতুর নির্মান কাজ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল ১ জুলাই ২০১৯ তারিখে। কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে মাত্র ৬০ ভাগ। আর এ বছরের মার্চ থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে। ব্রিজ নির্মাণে এই দীর্ঘসূত্রিতায় ব্রিজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে জেলার দক্ষিনের মানুষের বিভাগীয় শহর খুলনা ও জেলা সদরসহ রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করতে সহযোগিতা করবে। আর উন্নয়নের মূল ধারায় সংযুক্ত হবে পিছিয়ে পড়া জনপদ নড়াইল।

মন্তব্য করুন: