• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

Inhouse Drama Promotion
Inhouse Drama Promotion

২৫০ বছরের পশুর হাট, নেই টেবিল-চেয়ার, লাগে না খাজনা

ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন, ভোলা

প্রকাশিত: ২০:৪০, ১৪ জুন ২০২৪

ফন্ট সাইজ
২৫০ বছরের পশুর হাট, নেই টেবিল-চেয়ার, লাগে না খাজনা

আড়াইশ বছর ধরে হয় না ইজারা, নেই কোনো খাজনা, বসানো হয় না টেবিল চেয়ার, নেই কোনো চাঁদাবাজি, দিতে হয় না বেচাকেনার কোনো রসিদ। প্রতি হাটে বেচাকেনা হয় ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার পশু। এক ঐতিহ্যের নিদর্শন ভোলা বালিয়া মিঞা বাড়ির পশুর হাট।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত গজারিয়া বাজারসংলগ্ন বালিয়া মিঞা বাড়ির সামনের খোলা মাঠে বসে এ পশুর হাট। জেলার শতবর্ষের পুরাতন তিনটি পশুর হাটের মধ্যে এটি অনেক বড় হাট। সপ্তাহে দুদিন বসে কোরবানির এ পশুর হাটটি।

দালাল ও খাজনা মুক্ত হওয়ায় জেলার চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, দৌলতখান চরপাতা ও ভোলা সদরের ভেলুমিয়া, আলীনগর, চরসামাইয়া, বাঘমারা, রাজাপুর, চর চন্দ্রপ্রসাদ, এলাকা থেকে নানা প্রজাতের কোরবানির গরু, ছাগল ও ভেড়ায় বাজার সয়লাব হয়ে যায়।

এখানে ছোট, বড়, মাঝারি তথা সব ধরনের পশু পাওয়া যায় বলে মাঠ ভর্তি উপচেপড়া ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠে কোরবানির হাট। হাট ছাড়িয়ে রাস্তাঘাটসহ আশপাশের এলাকাগুলোও পূর্ণ হয়ে যায় পশুতে। তাই হাটের আগের দিন বিক্রেতারা মাঠে খুঁটি পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে। 

দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতা ও ব্যাপারীরাও পছন্দের পশুটি কিনতে এ হাটে আসে। বাজারের দরের সঙ্গে সংগতি রেখেই পছন্দের পশুটি ক্রয় করতে পারেন ক্রেতারা। তাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। ঈদের আগেভাগে ক্রয়কৃত পশু বাড়িতে পৌঁছে দিতেও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাটে আনা সব চেয়ে বড় ৮ মন ওজনের গরুটির মূল্য হাঁকিয়েছে ২০ লাখ টাকা এবং সবচেয়ে ছোট গরুটির দর ৪৫ হাজার টাকা। ঈদের পূর্বে ৩ থেকে ৪টি হাট বসে। এবারে প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাজার কমিটি।

পশু বিক্রেতা মাইনউদ্দিন জানান, এই হাটে খাজনা নাই, বাজনা নাই। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসে। বেচাকেনা ভালো হয়। এটি মিঞা বাড়িওয়ালারা খাজনা মুক্ত করে দিয়েছে, সবাই চিনে। প্রশাসন একবার বন্ধ করতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নাই।

বিক্রেতা আনিস ব্যাপারী জানান, খাজনা নাই, গরু বেচাকেনা ভালো হয়। এই পশুর হাট অনেক পুরাতন। মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু মিঞার বাপ-দাদারা এই হাটকে খাজনামুক্ত কোরবানির হাট করেন।

ক্রেতা সোবহান জানান, আমরা প্রতি বছর এ হাট থেকেই গরু ক্রয় করি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর দাম বেশি। তবে দাম বেশি হলেও পছন্দেরটা কিনতে পেরেছি।

ক্রেতা শিক্ষক ইউনুছ শরীফ বলেন, এ হাটে পশু যেমন ক্রেতাও অনেক বেশি। এখানে বিভিন্ন দামের গরু পাওয়া যায়। এবার গরুর দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি।

মিঞা পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ’র চাচাতো ভাই আইনুর রহমান জুয়েল জানান, প্রায় আড়াইশ বছর পূর্বে তাদের পূর্ব পুরুষ আরব আলী মিঞা কোরবানির পশু কিনতে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাংলাবাজার খাষেরহাট নামক পশুর হাটে যায়। তার পছন্দের পশু কিনে বাড়ি ফিরছিলেন।

এ সময় পশু কেনার খাজনার বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। খাজনা আদায়কারী তার কাছে খাজনার টাকা দাবি করায় বিষয়টি তার আত্মসম্মানে আঘাত করে। খাজনার বিড়ম্বনার শিকার হয়ে তাদের মিঞা বাড়ির সামনের বিশাল মাঠে খাজনা মুক্ত পশুর হাট বসায়। সেই থেকেই সম্পূর্ণ খাজনা মুক্ত জেলার অন্যতম কোরবানির পশুর হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

বিভি/জোহা/এজেড

মন্তব্য করুন:

Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2