যৌথবাহিনীর হাতে আটক যুবদল নেতার মৃত্যু, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া
নিহত তৌহিদুল (বামে) ও তার স্ত্রী-সন্তান
বাবার কুলখানিতে অংশ নিতে এসেছিলেন বাড়িতে। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগের রাতে যৌথবাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বাড়ি থেকে। এরপর তার মরদেহ পাওয়া যায় হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে তৌহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের ওই নেতাকে আটক করে যৌথবাহিনী। পরদিন শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় পরিবারের কাছে।
তৌহিদুলের পরিবারের দাবি, নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও ছিল। তৌহিদুল কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন।
এদিকে এই যুবদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও আলোচক সাইয়েদ আবদুল্লাহ এই ঘটনার তদন্ত দাবি করে কয়েকটি পোস্ট দিয়েছেন। এছাড়াও লেখক কবির আহমদ চৌধুরী, শরীফ সাইদুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আইডি থেকে এই হত্যার বিচার দাবি করা হয়েছে। আর বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের পেইজগুলোতেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিচারের দাবি উঠেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তৌহিদুল ইসলাম চট্টগ্রামে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। সংসার জীবনে ৪ কন্যার বাবা তিনি। গত ২৬ জানুয়ারি তৌহিদের বাবার মৃত্যু হয়। শুক্রবার ছিল বাবার কুলখানি। বাবার কুলখানি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গ্রামে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনী তাকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়।
নিহতের ভাই আবুল কালাম আজাদ টিপু জানান, আমার বাবা ৪ দিন আগে মারা গেছেন। শুক্রবার ছিল কুলখানি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর তিনটি গাড়ি ও একটি লাল রঙের গাড়ি আমাদের বাড়িতে আসে। এ সময় পোশাক পরিহিত ও সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন তৌহিদুলের কাছে অস্ত্র আছে এমন অভিযোগে রুমে তল্লাশি করে। আমার ভাইয়ের কাছে অস্ত্র নেই, বার বার তা বলার পরও তারা আমার ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। শুক্রবার সকাল থেকে আমরা থানায় ভাইয়ের খোঁজ নিয়েও পাইনি।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মোরশেদ মোবাইল ফোনে আমাদের জানান, শহরতলীর গোমতী নদীর পাড়ের গোমতী বিলাশ নামক স্থান থেকে আমার ভাইকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়েছে। আমরা হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাই। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নির্যাতনে আমার ভাই নিহত হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
নিহত তৌহিদুলের স্ত্রী ইয়াসমিন নাহার জানান, আমার চারটা মেয়ে এখনো ছোট। আমি এখন কী করব, মেয়েগুলোকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব? আমার স্বামী তো কোনো অপরাধ করেনি। তাহলে কেন আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে এভাবে হত্যা করা হলো। আমি পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং বিচার চাই।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ফোন করে জানায় আহতের কথা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সেটা জানায়নি যৌথবাহিনী। তবে তৌহিদুলের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই বলে উল্লেখ করেন ওসি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ তৌহিদুল ইসলামকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, যুবদল নেতা তৌহিদ তাদের দলের একজন সৎ ও নিবেদিত নেতা ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার দুই মেয়ে কোরআনের হাফেজ। সে অস্ত্রধারী হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের দাবি করছি।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: