আবাসস্থলের অভাবে লোকালয়ে বিলুপ্ত প্রায় শকুন
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির একটি ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তীর’ এর সদস্যরা শকুনটি উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
সোমবার (৫ই জানুয়ারি) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের কছিমবাজার এলাকা থেকে শীতকাতর ও দুর্বল অবস্থায় শকুনটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর সেটিকে নিরাপদ স্থানে রেখে প্রাথমিক পরিচর্যার ব্যবস্থা করেন সংগঠনের সদস্যরা।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের শিক্ষকদের মতে, অতিরিক্ত শীতের কারণে প্রতি বছর হিমালয় অঞ্চল থেকে খাদ্যের সন্ধানে এসব শকুন বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে আসে। শীতজনিত দুর্বলতা, খাদ্য সংকট ও আবাসস্থলের অভাবে অনেক সময় এরা লোকালয়ে আশ্রয় নেয়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শকুনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শিক্ষকরা জানান, মৃত প্রাণী পরিষ্কার করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে শকুন বড় ভূমিকা পালন করে। তবে বিষাক্ত ওষুধের ব্যবহার ও আবাসস্থল ধ্বংসসহ নানা কারণে এই প্রজাতিটি এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
এদিকে বিরল এই পাখিটিকে উদ্ধার করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ‘তীর’-এর সদস্যরা। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। পরিচর্যা শেষে শকুনটি বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিভি/টিটি




মন্তব্য করুন: