রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রইলো ব্যাগ-জুতা-বাইক, না ফেরার দেশে ২ বন্ধু
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মোটর সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে বিদ্যুতের খাম্বার সাথে সংঘর্ষে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ২ শিক্ষার্থী মারা গেছেন। মোটরসাইকেলে থাকা অপর শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আলি মর্তুজা বলেন, ‘শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী গ্রামের হাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে’।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলো- ‘দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে রহমত আলী (১৪) ও আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী (১৪)। এবং গুরুতর আহত শিক্ষার্থী একই এলাকার জিয়ার আলীর ছেলে সাইফ আলী (১৪)। তিন শিশু শিক্ষার্থীই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ‘সকালে দৌলতপুর থেকে প্রাইভেট পড়ে এক মোটর সাইকেলে করে তিনজন বাড়ি ফিরছিলো। এসময় মোটর সাইকেলটি বেশ দ্রুত গতিতে আসছিলো সামনের দিক তেকে এক অটোকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বিদ্যুতের খাম্বার সাথে ধাক্কা লেগে মোটর সাইকেলটি দুমড়ে মুচরে যায়। মোটর সাইকেল আরোহী পিছনের ছেলেটি ছিটকে রাস্তার উল্টা দিকে চলে যায় এবং মোটর সাইকেল চালক ও মাঝের আরোহী খাম্বার সাথে আঘাত লেগে মাথা দিয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত হয়ে নিস্তেজ হয়ে যায়। পরে পরিবারের লোজনক স্থানীয়দের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা: হারুনার রশিদ বলেন, ‘শনিবার সকালের দিকে শুনেছি আমার বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর দুইটা বাচ্চা মোটর সাইকেল এক্সিডেন্টে মারা গেছে। বিষয়টি শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে সন্তান হারানোর বেদনার মতো। সংবাদ শুনে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে নিথর দেহের কোমলমতি দুই বাচ্চার এভাবে অপমৃত্যু মেনে নেয়ার মতো নয়’।
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি স্কুলগামী বাচ্চারা মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্টে মৃত্যুর হার আমাদের উদ্বেগের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে’। স্কুলের পক্ষ থেকে বারং বার অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, প্রশাসনকেও বলছি এগুলি একটু নিয়ন্ত্রন করার জন্য কিন্তু দুঃখের বিষয় কোন সুফল পাচ্ছি না’। অন্তত আমি আমার বিদ্যলয় চত্বরে কোন শিক্ষার্থীকে মোটর বাইক নিয়ে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি; এতেও কখনও কখনও নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়’।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: হোসেন ইমাম বলেন,‘ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন তিনটি কিশোর বয়সী ছেলেদের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইটা বাচ্চাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর এক শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। নিহত দুই বাচ্চার হেড ইনজুড়ি ছিলো।’
তবে এ বিষয়ে মোটর সাইকেল চালক নিহত কিশোর রহমত আলীর পিতা হেকমত আলীর মুঠোফোনে কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: