• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিখোঁজের পাঁচদিন পর পদ্মায় ভেসে উঠলো যুবকের মরদেহ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নিখোঁজের পাঁচদিন পর পদ্মায় ভেসে উঠলো যুবকের মরদেহ

রেজাউল শিকদার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজের পাঁচদিন পর ভেসে উঠলো যুবক রেজাউলের মরদেহ। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাশের ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর থেকে রবিবার রাতে লাশটি উদ্ধার করে স্থানীয় নৌপুলিশ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নৌপুলিশ ও নিখোঁজ রেজাউলের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বড় ভাই হারুন শিকদারের কাছে মোবাইলে ফোন করে রেজাউলের খবর জানতে চান। তার নিখোঁজের বিষয়টি বললে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের নতুন হাট সেলিমপুর চরে লাশ পাওয়ার খবর জানায়। খবর পেয়ে রাতেই আমরা ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে যাই। লাশের পড়নে নিল রঙের জিন্সের প্যান্ট, ব্লু রঙের শার্ট পড়া ও পকেটে থাকা মানিব্যাগের কাগজপত্র দেখে আমার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। এছাড়া আমার ভাইয়ের লাশ প্রথম দেখেই চিনে ফেলেছি। লাশ আনতে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে আমরা রওয়ানা হয়েছি।  

ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) নাসিম আহম্মেদ জানান, রবিবার সন্ধ্যার দিকে পদ্মা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন চৌকিদারের মাধ্যমে রাত ৮টার দিকে আমাদের জানায়। খবর পেয়ে তাদেরকে লাশটি আটকানোর কথা বলে রওয়ানা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে চলে আসি। পরে পরিবারের লোকজন কয়েকদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে নিখোঁজ রেজাউল শিকদারের লাশ বলে শনাক্ত করেন। কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় পচে অর্ধগলিত হওয়ায় লাশটি রবিবার বিকালের দিকে ভেসে ওঠে। রাতেই লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিখোঁজ রেজাউল শিকদার (৩৫) গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে যানবাহন লোডের জন্য অপেক্ষমান রো রো (বড়) ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’ নামক ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পদ্মা নদীতে লাফ দেন তিনি। তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে আসা ডুবুরি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরদিন বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরি ঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কোন সন্ধান না পাওয়ায় বুধবার রাতে তারা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যায়। 

নিহতের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার দাবি করেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি। 

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, গত মঙ্গলবার বিকালে যাত্রীর সাথে জুয়াড়িদের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রেজাউল শিকদার নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। এ সময় যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। যাত্রী ওই ফেরিতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া চলে যাওয়ায় তাকেও পায়নি। নিখোঁজের পাঁচদিন পর গতকাল রবিবার রাতে পদ্মায় লাশ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হলে তারা গিয়ে রেজাউলের লাশ হিসেবে শনাক্ত করে। 

তিনি আরও বলেন, নিহত রেজাউল শিকদারের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দে ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: