• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

মেয়ের গায়ে হলুদের দিন মায়ের মৃত্যু  

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ২১:১৮, ৩ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মেয়ের গায়ে হলুদের দিন মায়ের মৃত্যু  

প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে গোয়ালঘরে ঢুকেছিলেন দীপিকা সানা। কিন্তু গোয়াল ঘরের লিকেজ বিদ্যুতের স্পর্শে হঠাৎ থেমে গেল এই মায়ের জীবন। অথচ বাড়িভর্তি ওই সময় ছিলো বিয়ের ব্যস্ততা, মেয়ের গায়ে হলুদের রঙিন স্বপ্ন। বিয়ের আগের দিন আর কন্যাকে পাত্রস্থ করা হলো না তার। 

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, ঘুঘুমারি গ্রামের সর্বজনপ্রিয় কৃষক দেবাশীষ সানার স্ত্রী দীপিকা সানা (৩৫) ছিলেন সৎ, পরিশ্রমী ও মমতাময়ী একজন গৃহিণী। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে গরুর দুধ আহরণের জন্য গোয়ালঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত লিকেজ বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান অর্পিতা সানার (১৮) বিয়ে ঠিক হয়েছিলো। বাড়িতে চলছিলো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিজের হাতে ঘরবাড়ি গুছিয়েছিলেন দীপিকা, মেয়ের নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্মম নিয়তি সেই আনন্দকে রূপ নিলো শোকে। মুহূর্তেই বিয়ের বাড়ি হয়ে উঠল শোকের বাড়ি।

খাজরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু জানান, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। দীপিকার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির তিন সন্তান। অভীক সানা (১৯), অর্পিতা সানা (১৮) ও অর্ণব সানা (৯)। সন্তানদের লেখাপড়া ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণে দুইজনেই কঠোর পরিশ্রম করতেন। সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি নিজ হাতে সামলে সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্নই ছিল দীপিকার একমাত্র লক্ষ্য।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ফিরলে পরিবার সৎকার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: