মানিকগঞ্জের সম্প্রীতির সুনাম ধরে রাখতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। তাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিনের প্রথম কর্মসূচিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এরপর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার সিংগাইর, হরিরামপুর, দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার আটটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে দুঃসময়েও যারা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদানেই আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। এ জন্য মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। এই কৃতজ্ঞতা আমাকে দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির মধ্যে রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ভোট দিয়েছেন কি দেননি, তা বিবেচনা না করে সব মানুষের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে। জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
মানিকগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম রিতা বলেন, এ জেলায় দুর্গাপূজামণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিচয় বহন করে। এই সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সুনাম ধরে রাখতে সবাইকে সহনশীল হতে হবে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে টাকার প্রলোভনে না পড়ে যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা উচিত। ব্যক্তিগত ও দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে যেন সাধারণ মানুষ ও এলাকার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
খাদ্যমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর নেন এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য আর্থিক অনুদান দেন। এ সময় স্থানীয় আয়োজকেরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন। পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসবের আয়োজনেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শন করা মণ্ডপগুলো হলো সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ, হরিরামপুরের কাষ্ঠাপাড়া বাজার দুর্গামন্দির, আন্ধারমানিক নেপাল হালদারের বাড়ির সার্বজনীন দুর্গামন্দির, দৌলতপুর কালীবাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দির, ঘিওর সতদল সার্বজনীন দুর্গামন্দির, ঘিওরের কচিকাঁচা মিলন সংঘ সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, শিবালয়ের আরিচা ঘাট বাজার সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং মহাদেবপুর উত্তরপাড়া বনদুর্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজামন্দির।
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর তাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবিদুর রহমান রোমান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: