• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

দ্বিতীয় দিনের অবরোধ ঘিরে সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩:২৩, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৩:৪৩, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দ্বিতীয় দিনের অবরোধ ঘিরে সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে বহিরাগত সশস্ত্র দল অপসারণের ৩ দফা দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফাঁকা হয়ে পড়েছে সাজেক ও এর আশপাশের এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে সাজেকবাসীর আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এবং পুলিশের হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ’।

সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা এক বিবৃতিতে জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। তবে জরুরি সেবা বিবেচনায় অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ওষুধ সরবরাহকারী যান এবং সাংবাদিকদের গাড়ি এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।

‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে ঘোষিত ৩ দফা দাবির আন্দোলন শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে গড়ায়। পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত এলাকা থেকে অপসারণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাজেক ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ জনজীবনে স্থবিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করলেও পরিস্থিতি যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় পর্যটকদের একটি গাড়িবহরে বাধা সৃষ্টি করে অবরোধকারীরা। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে যৌথ বাহিনী পাল্টা গুলি ছুঁড়লে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তুমুল গোলাগুলি চলে। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না হলেও অবরোধকারীদের ইটের আঘাতে ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সার্বিক বিষয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সাজেক এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দুষ্কৃতকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর প্রয়োজনীয় টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাজেকে অবস্থানরত পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: