সৌদি থেকে এসে প্রমিকার সাবেক প্রেমিককে হত্যা, নেপথ্যে যে রহস্য
প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে কিশোরী তাসলিমা আক্তারের আপত্তিকর ছবি তুলেছিলেন তারই প্রেমিক ১৭ বছর বয়সী কিশোর আল আদিয়াত সায়র। কিন্তু কিছুদিন পর তাসলিমার সঙ্গে সম্পর্ক সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাসলিমার আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করে দেয় আদিয়াত। তার শাস্তি স্বরূপ সৌদি থেকে এসেই আদিয়াতকে গলাটিপে হত্যা করে আরাফাতসহ ৬ জন। এ ঘটনায় জড়িতদের সবাইকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে ডিবি ওয়ারী বিভাগ। রাজধানীর টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে একটি লোমহর্ষক হত্যা মামলার ছয় আসামিকে গ্রেফতার ও হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার (১৮), সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেন (২২), মো. সাকিব খান (২২), নয়ন মিয়া (২২), নুরুজ্জামান শ্যামল (২০) ও রাকিব মিয়া (২২)।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে ভিকটিম আল আদিয়াত সায়র (১৭)-এর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময়ে ভিকটিম গোপনে তাসলিমার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে এবং পরবর্তীতে কয়েকজন বন্ধুর কাছে তা শেয়ার করে। পরে তাসলিমার সঙ্গে সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেনের নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানার পর আরাফাত হোসেন তাসলিমাকে ধৈর্য ধরতে বলে এবং দেশে এসে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত হোসেন ২ নভেম্বর দেশে ফিরে আসে। পরদিন ৩ নভেম্বর তাসলিমা আক্তার ভিকটিমকে নিয়ে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখান থেকে তারা গাজীপুরের উলুখোলা এলাকায় গেলে হুজাইফা ও ইজি বাইক চালক রাকিব তাদের রিসিভ করে। রাত আনুমানিক আটটার দিকে ইজি বাইকে জিএমপি’র পূবাইল থানাধীন বিন্দান রোডে প্রবেশ করার পর রাকিব ও আরাফাত ভিকটিমের গলা টিপে ধরে এবং শ্যামল, হুজাইফা, নয়ন ও রাজ— ভিকটিমের হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর ভিকটিমের লাশ ইজি বাইকে করে ঘোড়াশাল-টঙ্গী মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।
ডিবি আরও জানায়, বাদী জনৈক মিজানুর রহমান বিজ্ঞ আদালতে একটি নালিশী পিটিশন দাখিল করেন এবং আদালতের নির্দেশক্রমে কদমতলী থানায় মামলাটি রুজু হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ নভেম্বর গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তভার গ্রহণের পর গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টায় ভিকটিমের প্রেমিকা তাসলিমা আক্তারকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাসলিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আরও তথ্য প্রদান করে। তার তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি চৌকস টিম টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আরও ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
বিভি/কেএস/টিটি




মন্তব্য করুন: