তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় গ্রেফতার ৩
নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চরমধুয়ায় ধর্ষণ চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান।
ঘটনার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ৫ জনকে আসামি করে পর্ণোগ্রাফী আইনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। পাশাপাশি ঘটনা ধামাচাপা দিতেও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন একই এলাকার গাজীপুরা গ্রামের রাহীম (১৮), মাহবুবুর রহমান ও ত্রিসাদ (২০)। অভিযুক্ত সাজিদ (১৯) ও শাহ পরান পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী (১৮) থানায় দায়ের করা এজাহারে জানান, তিনি চরমধুয়ার গাজীপুরা গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। গত ১৫ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে তিনি প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে অভিযুক্ত মাহাবুবুর রহমান (২৮) ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে বাড়ির সামনে খড়কোটার (গাদারপাড়া) মধ্যে নিয়ে যায় এবং তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় রাহিম (১৮) তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সাজিদ (১৯) তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং শাহপরান (২০) মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ক্লিনিক থেকে ভুক্তভোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় গত ১৬ জানুয়ারি রাতে গাজীপুরা বাজার এলাকা থেকে রাহিম, মাহাবুবুর রহমান ও ত্রিসাদকে আটক করা হয়। পাশাপাশি একটি মহল এ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, "ধর্ষণ চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ১৭ জানুয়ারি। আমি ভিডিও থেকে অভিযুক্তদের স্পষ্ট চেহারা বুঝা যায়। আমরা ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছি এবং আরও ২ জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।"
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: