শত্রুতার জেরে এলোপাতাড়ি গুলি; নারী-শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ১৫, আটক ৩
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় নারী-শিশুসহ ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় লাইসেন্সকৃত একনালা বন্দুক ও গুলিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে রবিবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রুদ্রপাড়া এলাকায় মিজান খান ও মান্নান খানের মধ্যে বিরোধের জেরে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশি মিজান খান ও মান্নান খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। রবিবার রাতে হারুন খানের বাড়ির সামনে উভয়ের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষের লোকজন রাস্তায় জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় মান্নান খান উত্তেজিত হয়ে হারুন খানের লাইসেন্সকৃত একনালা বন্দুক থেকে তিন রাউন্ড এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়েন। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন।
আহতরা হলেন— মিজানুর রহমান, মিনু বেগম, জয়তন বেগম, কাজল বেগম, ইভা, বন্যা, নুপুর বেগম, আয়ান, ফাহিমা, দোলন, আলামিন, খোরশেখ খাঁ, মোস্তাকিম, ইদ্রিস খাঁ ও সাফি বেগম।
স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
ঘটনার পরপরই শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে শ্রীনগর থানার পুলিশ ও র্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে হারুন খান (৭০), আব্দুল মান্নান খান (৬০) ও মহসিন খানকে (২৯) আটক করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম আরও জানান, আটককৃত হারুন খানের বাড়ি থেকে একটি দশমিক ২২ বোর পিস্তল, ৬১ রাউন্ড গুলি, একটি একনালা বন্দুক, ২১ রাউন্ড কার্তুজ ও ৯টি ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মান্নান খানের বাড়ি থেকে একটি ওয়াকিটকি (চার্জারসহ) জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: